Loading...
Loading...
উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতার পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই মহারথী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। মাইকেল বাংলা কাব্যে এবং বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। মাইকেলকে বলা হয় আধুনিক বাংলা কাব্যের জনক এবং বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের জনক। BCS পরীক্ষায় এই দুই সাহিত্যিক থেকে প্রতিবারই প্রশ্ন আসে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | সাগরদাঁড়ি, যশোর (বর্তমান কেশবপুর, যশোর) |
| পরিচিতি | আধুনিক বাংলা কাব্যের জনক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক |
| ধর্মান্তর | খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন (নাম নেন Michael Madhusudan Dutt) |
| বিশেষ অবদান | বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ (Blank Verse) প্রবর্তন |
প্রধান রচনাবলি:
| রচনা | বিশেষত্ব |
|---|---|
| মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১) | বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য, রামায়ণ অবলম্বনে রচিত, রাবণ ও ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ) এখানে নায়ক, অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা |
| শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯) | প্রথম বাংলা নাটক (মতান্তরে প্রথম সার্থক বাংলা নাটক) |
| তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য | পৌরাণিক আখ্যানমূলক কাব্য |
| বীরাঙ্গনা (১৮৬২) | বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য |
| কপোতাক্ষ নদ | বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা) |
| পদ্মাবতী, কৃষ্ণকুমারী | নাটক |
| হেক্টরবধ | গ্রিক পুরাণ অবলম্বনে |
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকৃত নাম | ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা (বন্দ্যোপাধ্যায়) |
| জন্ম | বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ |
| পরিচিতি | বাংলা গদ্যের জনক, সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ |
| উপাধি | "বিদ্যাসাগর" (সংস্কৃত কলেজ প্রদত্ত), "দয়ার সাগর" (মানবদরদি হিসেবে) |
| সমাজসংস্কার | বিধবা বিবাহ আন্দোলন ও আইন পাস (১৮৫৬), বহুবিবাহ রোধ আন্দোলন, নারীশিক্ষা প্রসার |
প্রধান রচনাবলি:
| রচনা | বিশেষত্ব |
|---|---|
| বর্ণপরিচয় (১৮৫৫) | বাংলা শিশু শিক্ষার আদর্শ পাঠ্যপুস্তক, দুই ভাগে বিভক্ত |
| বেতাল পঞ্চবিংশতি | হিন্দি থেকে বাংলায় অনুবাদ |
| সীতার বনবাস | রামায়ণ অবলম্বনে |
| শকুন্তলা | কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্-এর অনুবাদ |
| ভ্রান্তিবিলাস | শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর অনুবাদ |
| প্রভাবতী সম্ভাষণ | প্রথম রচনা |
১। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের "মেঘনাদবধ কাব্য" (১৮৬১) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। এটি রামায়ণের কাহিনি অবলম্বনে রচিত, যেখানে রাবণ ও মেঘনাদকে নায়ক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
২। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ (Blank Verse) প্রবর্তন করেন। মেঘনাদবধ কাব্য এই ছন্দে লেখা।
৩। "বর্ণপরিচয়" কার রচনা?
ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগর রচিত "বর্ণপরিচয়" (১৮৫৫) বাংলা শিশু শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যপুস্তক। এটি দুই ভাগে বিভক্ত।
৪। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি কোনটি?
ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগরকে তাঁর অসামান্য দয়া ও মানবসেবার কারণে "দয়ার সাগর" উপাধি দেওয়া হয়। তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস (১৮৫৬) ও নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
৫। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট কোনটি?
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের "কপোতাক্ষ নদ" বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা)। এটি তাঁর জন্মস্থান যশোরের কপোতাক্ষ নদকে নিয়ে লেখা।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথমে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বন্ধু রামনারায়ণ তর্করত্নের অনুরোধে বাংলায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। তিনি হিন্দু কলেজে পড়াকালীন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরে ফ্রান্সে গিয়ে ব্যারিস্টারি পড়েন। জীবনের শেষদিকে চরম দারিদ্র্যে ভুগেছিলেন। বিদ্যাসাগর তাঁকে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন — এ কারণে মাইকেল বিদ্যাসাগরকে "দয়ার সাগর" বলেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য ছিল দুর্বোধ্য ও জটিল। তিনিই প্রথম বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন (কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি) সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করেন এবং বাক্যকে সুগঠিত ও প্রাঞ্জল করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে "বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী" বলেছেন।
মাইকেল ও বিদ্যাসাগর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। মাইকেল বিদ্যাসাগরকে উৎসর্গ করে বলেছিলেন যে বিদ্যাসাগরের মধ্যে বাঙালির শ্রেষ্ঠ গুণাবলি — প্রাচীন ঋষির তেজ, ইংরেজের কর্মশক্তি ও বাঙালি মায়ের হৃদয় — একত্রিত হয়েছে।