Loading...
Loading...
বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগে সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি হলেন জীবনানন্দ দাশ। তিনি ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম এবং বাংলা কবিতায় আধুনিকতার পথিকৃৎ। তাঁকে বলা হয় "রূপসী বাংলার কবি", "তিমির হননের কবি" এবং "ধূসরতার কবি"। এই অধ্যায়ে জীবনানন্দ দাশের পাশাপাশি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কবিদের আলোচনা করা হবে। BCS-এ এই টপিক থেকে প্রতিবার ২-৩টি প্রশ্ন আসে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | বরিশাল |
| মৃত্যু | ট্রাম দুর্ঘটনায়, কলকাতা |
| উপাধি | রূপসী বাংলার কবি, তিমির হননের কবি, ধূসরতার কবি, প্রকৃতি ও নিসর্গের কবি |
কাব্যগ্রন্থ:
| কাব্যগ্রন্থ | বিশেষত্ব |
|---|---|
| ঝরাপালক (১৯২৭) | প্রথম কাব্যগ্রন্থ |
| ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬) | আধুনিক কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন |
| বনলতা সেন (১৯৪২) | সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ |
| মহাপৃথিবী (১৯৪৪) | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি |
| সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮) | রহস্যময় কাব্য |
| রূপসী বাংলা (১৯৫৭) | মরণোত্তর প্রকাশিত, বাংলাদেশের প্রকৃতির অসাধারণ চিত্র |
| বেলা অবেলা কালবেলা | শেষের দিকের কাব্য |
বিখ্যাত কবিতা:
রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতায় আধুনিকতার ধারক পাঁচজন কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়:
| কবি | বিশেষত্ব |
|---|---|
| জীবনানন্দ দাশ | রূপসী বাংলার কবি |
| বুদ্ধদেব বসু | "কবিতা" পত্রিকা সম্পাদক, তিথিডোর (উপন্যাস) |
| সুধীন্দ্রনাথ দত্ত | বুদ্ধিবাদী কবি, "অর্কেস্ট্রা" কাব্যগ্রন্থ |
| অমিয় চক্রবর্তী | রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব ছিলেন |
| বিষ্ণু দে | মার্কসবাদী চেতনার কবি |
| কবি | উপাধি/পরিচিতি | প্রধান রচনা |
|---|---|---|
| জসীমউদ্দীন | পল্লীকবি | নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, কবর (কবিতা) |
| ফররুখ আহমদ | মুসলিম রেনেসাঁর কবি | সাত সাগরের মাঝি, পাখির বাসা, হাতেম তায়ী |
| আহসান হাবীব | আধুনিক কবি | রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারাদুপুর |
| সুকান্ত ভট্টাচার্য | কিশোর কবি | ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস; বিখ্যাত: "হে মহাজীবন" |
১। জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ব্যাখ্যা: জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ "ঝরাপালক" (১৯২৭)। "রূপসী বাংলা" মরণোত্তর প্রকাশিত (১৯৫৭)।
২। ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে কে নেই?
ব্যাখ্যা: পঞ্চপাণ্ডব: জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব, সুধীন্দ্রনাথ, অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে। জসীমউদ্দীন পল্লীকবি — তিনি পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত নন।
৩। "হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে" — কোন কবিতার পঙ্ক্তি?
ব্যাখ্যা: এটি জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা "বনলতা সেন"-এর প্রথম পঙ্ক্তি।
৪। "পল্লীকবি" কার উপাধি?
ব্যাখ্যা: জসীমউদ্দীনকে "পল্লীকবি" বলা হয়। তাঁর প্রধান রচনা "নকশী কাঁথার মাঠ" ও "সোজন বাদিয়ার ঘাট"।
৫। "রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থটি কখন প্রকাশিত হয়?
ব্যাখ্যা: "রূপসী বাংলা" জীবনানন্দ দাশের মরণোত্তর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। তিনি ১৯৫৪ সালে মারা যান, কাব্যটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ইন্দ্রিয়ঘন চিত্রকল্প, প্রকৃতির বিস্তারিত বর্ণনা এবং এক ধরনের বিষণ্নতার সুর লক্ষ্য করা যায়। তিনি বাংলার নদী, মাঠ, ধানক্ষেত, পাখি, জোনাকি — এসব প্রকৃতির উপাদান দিয়ে এক অনন্য কাব্যজগৎ তৈরি করেছেন। তাঁর কবিতায় "অন্ধকার", "ধূসর", "নক্ষত্র", "শিশির" এই শব্দগুলো বারবার আসে।
জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় ট্রামের নিচে চাপা পড়ে আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর "রূপসী বাংলা" (১৯৫৭), "বেলা অবেলা কালবেলা" ও বেশ কিছু উপন্যাস ("মাল্যবান", "সুতীর্থ") আবিষ্কৃত হয়। তিনি জীবদ্দশায় কবি হিসেবে ততটা স্বীকৃতি পাননি, মৃত্যুর পরে তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন হয়।