Loading...
Loading...
১৯৪৭-পরবর্তী পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের সাহিত্য একটি স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিশেষত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সাহিত্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য বাংলাদেশের সাহিত্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গৌরবময় অধ্যায়। BCS পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে প্রতিবার ৩-৪টি প্রশ্ন আসে।
| কবি | পরিচিতি | প্রধান রচনা |
|---|---|---|
| শামসুর রাহমান | নগর কবি, বাংলাদেশের প্রধান কবি | "স্বাধীনতা তুমি", "আসাদের শার্ট", "তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা", "বন্দী শিবির থেকে", "ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা" |
| সৈয়দ শামসুল হক | সব্যসাচী লেখক (কবিতা, নাটক, উপন্যাস সবই লেখেন) | পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (কাব্যনাট্য), নূরলদীনের সারাজীবন (কাব্যনাট্য), নিষিদ্ধ লোবান, পরাণের গহীন ভিতর |
| লেখক | পরিচিতি | প্রধান রচনা |
|---|---|---|
| হুমায়ূন আহমেদ | বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক | নন্দিত নরকে (প্রথম উপন্যাস), শঙ্খনীল কারাগার, হিমু সিরিজ, মিসির আলি সিরিজ, জোছনা ও জননীর গল্প (মুক্তিযুদ্ধ) |
| সেলিনা হোসেন | নারী ঔপন্যাসিক | হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস) |
| আনোয়ার পাশা | মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী | রাইফেল রোটি আওরাত = মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস |
| আখতারুজ্জামান ইলিয়াস | বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিকদের একজন | চিলেকোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণআন্দোলন), খোয়াবনামা (তেভাগা আন্দোলন) |
| শওকত ওসমান | কথাসাহিত্যিক | জননী (প্রথম উপন্যাস), ক্রীতদাসের হাসি (রূপক উপন্যাস) |
| লেখক | রচনা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| জাহানারা ইমাম | একাত্তরের দিনগুলি | মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি (ডায়েরি), উপন্যাস নয় |
| জাহানারা ইমামের উপাধি | শহীদ জননী | তাঁর পুত্র শফি ইমাম (রুমী) মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন |
| লেখক | রচনা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| মুনীর চৌধুরী | কবর | ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত নাটক (১৯৫৩ সালে জেলে বসে লেখা) |
১। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
ব্যাখ্যা: আনোয়ার পাশার "রাইফেল রোটি আওরাত" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। আনোয়ার পাশা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে নিহত হন।
২। "আসাদের শার্ট" কবিতাটি কার লেখা?
ব্যাখ্যা: "আসাদের শার্ট" শামসুর রাহমানের বিখ্যাত কবিতা। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে শহীদ আসাদকে নিয়ে এই কবিতা লেখা।
৩। "একাত্তরের দিনগুলি" কোন ধরনের রচনা?
ব্যাখ্যা: জাহানারা ইমামের "একাত্তরের দিনগুলি" একটি দিনলিপি (ডায়েরি), উপন্যাস নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ।
৪। "পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" কার রচনা?
ব্যাখ্যা: "পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য। তাঁকে "সব্যসাচী লেখক" বলা হয় কারণ তিনি কবিতা, নাটক, উপন্যাস সবই লিখেছেন।
৫। "কবর" নাটকটি কোন আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত?
ব্যাখ্যা: মুনীর চৌধুরীর "কবর" নাটকটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। তিনি ১৯৫৩ সালে জেলে বসে এটি লেখেন।
মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় — উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, নাটক, দিনলিপি ও স্মৃতিকথা। আনোয়ার পাশা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীনই "রাইফেল রোটি আওরাত" রচনা করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আল-বদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন — তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একজন।
হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮–২০১২) বাংলাদেশের সাহিত্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। তাঁর হিমু চরিত্র — হলুদ পাঞ্জাবি পরা, খালি পায়ে হাঁটা এক অদ্ভুত যুবক — বাংলাদেশের তরুণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মিসির আলি — যুক্তিবাদী অধ্যাপক যিনি অলৌকিক ঘটনার যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা খোঁজেন। "জোছনা ও জননীর গল্প" তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মহাকাব্যিক উপন্যাস।
"চিলেকোঠার সেপাই" ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের পটভূমিতে এবং "খোয়াবনামা" তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। ইলিয়াসকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিকদের একজন মনে করা হয়।