'লগ্ন' মানে লেগে থাকা। তাই লগ্নক মানে — যা শব্দের শেষে লেগে থাকে।
একটি শব্দ নাও, যেমন বই। এবার দেখো, শেষে ছোট্ট একটা করে অংশ জুড়ে দিলে কেমন বদলে যায় —
| শব্দ | কী জুড়ল | কী বোঝাল |
|---|---|---|
| বইটা | টা | নির্দিষ্ট একটি বই |
| বইগুলো | গুলো | অনেকগুলো বই |
| বইয়ের | এর | কারও বই, সম্পর্ক বোঝাল |
| বইও | ও | বইটাকেও, জোর দেওয়া হলো |
এই টা, গুলো, এর, ও — এদেরই বলে লগ্নক।
যেসব ছোট অংশ একা ব্যবহার করা যায় না, কিন্তু শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে সংখ্যা, নির্দিষ্টতা বা অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝায়, তাদের বলে লগ্নক।
খেয়াল করো — "টা", "গুলো", "ও" একা কোনো অর্থ দেয় না। এদের কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়তেই হয়।
বাক্যে বসার আগে সেটি নিছক একটি শব্দ; লগ্নক জুড়ে বাক্যে বসলে সেটি হয়ে যায় পদ।
বই (শব্দ) → বইটা দাও (পদ)
অর্থাৎ লগ্নকই শব্দকে পদে রূপান্তরিত করে। এটাই লগ্নকের আসল কাজ।
লগ্নক প্রধানত চার প্রকার —
| প্রকার | কী বোঝায় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| বিভক্তি | অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক | কে, রে, র, এর, এ, তে |
| নির্দেশক | নির্দিষ্ট করে দেখানো | টা, টি, খানা, খানি, জন |
| বচন | সংখ্যা (এক না অনেক) | রা, গুলো, গুলি, গণ, বৃন্দ |
| বলক | জোর বা গুরুত্ব দেওয়া | ই, ও |
শব্দকে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করতে শেষে যে অংশ যুক্ত হয়, তা-ই বিভক্তি। বিভক্তি দুই রকম —
| ধরন | উদাহরণ | প্রয়োগ |
|---|---|---|
| শব্দ বিভক্তি (নাম বিভক্তি) | এ, তে, কে, রে, র, এর | আমাকে বইটা দাও (আমা + কে) |
| ক্রিয়া বিভক্তি | ই, ছে, লাম, বে | সে খেলছে (খেল্ + ছে) |
শব্দ বিভক্তির সাতটি রূপ (প্রথমা থেকে সপ্তমী) আছে — সেগুলো পরের লেকচারে বিস্তারিত শিখব।
যে লগ্নক পদটিকে নির্দিষ্ট করে বোঝায়।
টা · টি · খানা · খানি · গাছা · গাছি · জন
| বাক্য | কাজ |
|---|---|
| বইটা দাও। | কোন বই — নির্দিষ্ট করে দিল |
| ছাতাখানা পুরোনো। | নির্দিষ্ট ছাতা |
| একজন মানুষ এসেছে। | মানুষ গোনার একক |
যে লগ্নক শব্দটির সংখ্যা বোঝায় — সাধারণত বহুবচন।
রা · গুলা · গুলি · গুলো · গণ · বৃন্দ · সব
| বাক্য | কাজ |
|---|---|
| ছেলেরা খেলছে। | একাধিক ছেলে |
| বইগুলো গুছিয়ে রাখো। | একাধিক বই |
| শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত আছেন। | একাধিক শিক্ষক (সম্মানসূচক) |
যে লগ্নক পদের ওপর বিশেষ জোর দেয়। বাংলায় বলক মাত্র দুটি — ই ও ও।
| বাক্য | কী জোর পড়ল |
|---|---|
| আজই তোমাকে যেতে হবে। | আজই — অন্য দিন নয় |
| আমিও তোমার সাথে যাব। | আমিও — আমাকেও ধরতে হবে |
১. চার প্রকার মনে রাখার ছড়া:
বিভক্তি জোড়ে সম্পর্ক, নির্দেশক দেয় চিনে, বচন বলে কতগুলো, বলক দেয় জোর দিয়ে।
২. কোন প্রকার — চার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত:
| প্রশ্ন করো | উত্তর হ্যাঁ হলে |
|---|---|
| সংখ্যা বোঝাচ্ছে? (এক না অনেক) | বচন |
| নির্দিষ্ট করে দেখাচ্ছে? (কোনটা) | নির্দেশক |
| জোর দিচ্ছে? | বলক |
| অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়াচ্ছে? | বিভক্তি |
৩. বলক চেনা সবচেয়ে সহজ — বাংলায় বলক মাত্র দুটি, ই আর ও। শব্দের শেষে এই দুটির কোনোটি দেখলেই বুঝবে বলক।
৪. একা বসতে পারে না — এই পরীক্ষাটাই আসল। "টা", "গুলো", "কে" — এগুলো একা বললে কোনো অর্থ হয় না। যদি অংশটি একা বসতে পারে, তবে সেটি লগ্নক নয়, আলাদা শব্দ।
১) "বইগুলো টেবিলে রাখো" — 'গুলো' কোন লগ্নক? উত্তর: বচন লগ্নক। 'গুলো' বোঝাচ্ছে একাধিক বই, অর্থাৎ সংখ্যা। সংখ্যা বোঝালেই বচন।
২) "কলমটা আমাকে দাও" — 'টা' কোন লগ্নক? উত্তর: নির্দেশক। 'টা' কলমটিকে নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে — যেকোনো কলম নয়, ওই কলমটি। (খেয়াল করো, একই বাক্যে 'আমাকে'-র 'কে' কিন্তু বিভক্তি — সম্পর্ক বোঝাচ্ছে।)
৩) "আজই আমি ঢাকা যাব" — 'ই' কোন লগ্নক? উত্তর: বলক। 'ই' জোর দিচ্ছে — অন্য কোনো দিন নয়, আজই। বাংলায় বলক দুটিই — ই ও ও।
৪) "মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন" — 'কে' কোন লগ্নক? উত্তর: বিভক্তি (দ্বিতীয়া বিভক্তি)। 'কে' শিশুর সঙ্গে ক্রিয়ার সম্পর্ক তৈরি করছে — কাকে দেখাচ্ছেন, তা বোঝাচ্ছে।
৫) "ছাতাখানা কার?" — 'খানা' কোন লগ্নক? উত্তর: নির্দেশক। 'খানা' ছাতাটিকে নির্দিষ্ট করছে। টা, টি, খানা, খানি — সবগুলোই নির্দেশক, শুধু কোন শব্দের সঙ্গে কোনটি বসে তা অভ্যাসে শেখা যায়।
১. লগ্নককে আলাদা শব্দ ভাবা। "বই গুলো" আলাদা করে লেখা ভুল — লগ্নক শব্দের সঙ্গে জুড়েই বসে: বইগুলো।
২. বচন আর নির্দেশক গুলিয়ে ফেলা। গুলো সংখ্যা বোঝায় (বচন), আর টা নির্দিষ্ট করে (নির্দেশক)। প্রশ্ন করো — কতগুলো, নাকি কোনটা?
৩. এক বাক্যে একটাই লগ্নক খোঁজা। একটি পদেই একাধিক লগ্নক বসতে পারে — বইগুলোকেও-তে তিনটি আছে। পরের লেকচারে এর নিয়ম শিখব।
৪. 'ই' ও 'ও'-কে সবসময় বলক ভাবা। এই দুটি বর্ণ শব্দের ভেতরেও থাকতে পারে (যেমন 'ওষুধ'-এর 'ও')। বলক তখনই, যখন তা শব্দের শেষে জোর দিতে বসে — আজই, আমিও।
৫. লগ্নক জুড়েও শব্দকে 'শব্দ'ই বলা। মনে রাখো, লগ্নক যুক্ত হলেই শব্দ হয়ে যায় পদ — এটিই এই অধ্যায়ের মূল কথা।