Loading...
Loading...
এই পরীক্ষায় এই টপিক থেকে ৩টি প্রশ্ন — মায়ানমার সীমান্তের জেলা, প্রাচীনতম ভূমিরূপ এবং প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি।
বিকল্প: (ক) ২টি • (খ) ৩টি ✓ • (গ) ৪টি • (ঘ) ৫টি
মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ৩টি জেলার সীমান্ত — রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
বাংলাদেশের দুটি প্রতিবেশী দেশ — ভারত ও মায়ানমার। মায়ানমারের সাথে সীমান্তদৈর্ঘ্য প্রায় ২৭১ কিমি, যা তিনটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা ছুঁয়েছে: রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার। নাফ নদী কক্সবাজার অংশে দুই দেশের প্রাকৃতিক সীমারেখা গঠন করেছে। (তুলনায় ভারতের সাথে সীমান্ত আছে ৩০টিরও বেশি জেলার।)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মায়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা | ৩টি (রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার) |
| মায়ানমার সীমান্তদৈর্ঘ্য | ~২৭১ কিমি |
| ভারত সীমান্তদৈর্ঘ্য | ~৪১৫৬ কিমি |
| বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত নদী | নাফ নদী |
অনেকে খাগড়াছড়িকেও মায়ানমার সীমান্তে ভাবে — খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা হলেও এর সীমান্ত ভারতের সাথে, মায়ানমারের সাথে নয়।
বিকল্প: (ক) টারশিয়ারি যুগে ✓ • (খ) প্লাইস্টোসিন যুগে • (গ) কোয়াটারনারি যুগে • (ঘ) সাম্প্রতিক কালে
বাংলাদেশের প্রাচীনতম ভূমিরূপ = টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের পাহাড়)।
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের ভূমিরূপ তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত — (১) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়, (২) প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান বা চত্বরভূমি, এবং (৩) সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি। এর মধ্যে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ই সবচেয়ে পুরাতন; এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকা নিয়ে গঠিত। নবীনতম হলো সাম্প্রতিক কালে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বাহিত পলিতে গড়া প্লাবন সমভূমি।
| ভূমিরূপ শ্রেণি | ভূতাত্ত্বিক যুগ | উদাহরণ এলাকা |
|---|---|---|
| পাহাড় (প্রাচীনতম) | টারশিয়ারি | পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের পাহাড় |
| সোপান / চত্বরভূমি | প্লাইস্টোসিন | মধুপুর গড়, ভাওয়াল গড়, বরেন্দ্রভূমি, লালমাই |
| প্লাবন সমভূমি (নবীনতম) | সাম্প্রতিক / হোলোসিন | দেশের অধিকাংশ সমতল ভূমি |
কোয়াটারনারি যুগ প্লাইস্টোসিন ও হোলোসিন দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তাই বিকল্প হিসেবে বিভ্রান্তিকর। কিন্তু প্রশ্নে 'সবচেয়ে পুরাতন' চাওয়া হয়েছে — উত্তর টারশিয়ারি।
বিকল্প: (ক) চাঁদপুর • (খ) পিরোজপুর • (গ) মাদারীপুর • (ঘ) গাজীপুর ✓
প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি (সোপান) প্রধানত মধুপুর গড় ও ভাওয়াল গড় — ভাওয়াল গড় গাজীপুর জেলায়।
প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান বা চত্বরভূমি হলো অপেক্ষাকৃত উঁচু, লালচে-পীত মাটির পুরাতন ভূমি। বাংলাদেশে এর প্রধান উদাহরণ মধুপুর গড় (টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ) এবং ভাওয়াল গড় (গাজীপুর)। প্রশ্নের চারটি বিকল্পের মধ্যে চাঁদপুর, পিরোজপুর ও মাদারীপুর — তিনটিই সাম্প্রতিক প্লাবন সমভূমির অংশ; কেবল গাজীপুরেই ভাওয়াল গড়ের প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে।
| প্লাইস্টোসিন সোপান | অবস্থান (জেলা) |
|---|---|
| ভাওয়াল গড় | গাজীপুর |
| মধুপুর গড় | টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ |
| বরেন্দ্রভূমি | রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া অঞ্চল |
| লালমাই পাহাড় (নিম্ন সোপান) | কুমিল্লা |
চাঁদপুর, পিরোজপুর, মাদারীপুর — সবই নদীবেষ্টিত নিচু প্লাবন সমভূমি; এগুলোতে প্লাইস্টোসিন সোপান নেই। 'গড়' শব্দ থাকা জেলাই (ভাওয়াল গড় = গাজীপুর) সঠিক ইঙ্গিত।
বাংলাদেশের অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি — মূল লেকচার শিট — বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা, প্রতিবেশী দেশ ও সীমান্ত জেলা, ভূতাত্ত্বিক যুগ অনুসারে তিন প্রকার ভূমিরূপ (পাহাড়, সোপান, প্লাবন সমভূমি) — সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।