৪০তম BCS — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স (৪টি প্রশ্ন)
এই পরীক্ষায় এই টপিক থেকে ৪টি প্রশ্ন — অ্যানোডে বিক্রিয়া, বাল্বের রোধ, রেকটিফায়ার ও লাউড স্পিকার।
প্রশ্ন: অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
বিকল্প: (ক) জারণ ✓ • (খ) বিজারণ • (গ) প্রশমন • (ঘ) পানি যোজন
এক লাইনে সংজ্ঞা / মূল ধারণা
অ্যানোডে সর্বদা জারণ (oxidation), ক্যাথোডে বিজারণ (reduction)।
ব্যাখ্যা / ধাপে ধাপে
- জারণ = ইলেকট্রন ত্যাগ; বিজারণ = ইলেকট্রন গ্রহণ।
- অ্যানোডে ইলেকট্রন পরিবাহীতে ছেড়ে দেওয়া হয় → জারণ ঘটে।
- ক্যাথোডে আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে → বিজারণ ঘটে।
- এটি গ্যালভানিক ও তড়িৎ বিশ্লেষণ — উভয় কোষেই সত্য।
অনুরূপ উদাহরণ
| তড়িৎদ্বার |
বিক্রিয়া |
ইলেকট্রন |
| অ্যানোড |
জারণ |
ত্যাগ করে |
| ক্যাথোড |
বিজারণ |
গ্রহণ করে |
মনে রাখার কৌশল
- 'An Ox, Red Cat' — Anode = Oxidation, Reduction = Cathode।
সাধারণ ভুল / ফাঁদ
- অ্যানোড-ক্যাথোড উল্টে ফেলা।
- ব্যাটারির ভেতরে চিহ্ন (+/−) নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া — বিক্রিয়াই মূল ভিত্তি।
পরীক্ষার শর্টকাট
- অ্যানোড → জারণ। সবসময়, যেকোনো কোষে।
প্রশ্ন: '৬০W–২২০V' বাল্বের রোধ কত ওহম?
বিকল্প: (ক) ১৬.৩৬ • (খ) ১৬০ • (গ) ২৮০ • (ঘ) ৮০৬.৬৭ ✓
এক লাইনে সংজ্ঞা / মূল ধারণা
ক্ষমতা ও ভোল্টেজ থেকে রোধ: R = V²/P = (২২০)²/৬০ ≈ ৮০৬.৬৭ Ω।
ব্যাখ্যা / ধাপে ধাপে
- ক্ষমতার সূত্র: P = VI = I²R = V²/R।
- R বের করতে: R = V²/P।
- R = (২২০)²/৬০ = ৪৮৪০০/৬০।
- R ≈ ৮০৬.৬৭ Ω।
অনুরূপ উদাহরণ
| বাল্ব |
V²/P হিসাব |
রোধ |
| ১০০W–২২০V |
৪৮৪০০/১০০ |
৪৮৪ Ω |
| ৬০W–২২০V |
৪৮৪০০/৬০ |
৮০৬.৬৭ Ω |
| ৪০W–২২০V |
৪৮৪০০/৪০ |
১২১০ Ω |
মনে রাখার কৌশল
- কম ওয়াটের বাল্বের রোধ বেশি (R = V²/P, P কমলে R বাড়ে)।
সাধারণ ভুল / ফাঁদ
- R = V/P বা R = P/V ব্যবহার করা — সঠিক সূত্র R = V²/P।
পরীক্ষার শর্টকাট
- বাল্বের গায়ের লেখা থেকে রোধ = V²/P।
প্রশ্ন: AC কে DC করার যন্ত্র?
বিকল্প: (ক) রেকটিফায়ার ✓ • (খ) অ্যামপ্লিফায়ার • (গ) ট্রানজিস্টর • (ঘ) ডায়োড
এক লাইনে সংজ্ঞা / মূল ধারণা
রেকটিফায়ার পরিবর্তী প্রবাহকে (AC) একমুখী প্রবাহে (DC) রূপান্তর করে।
ব্যাখ্যা / ধাপে ধাপে
- AC-তে প্রবাহের দিক পর্যায়ক্রমে বদলায়; DC-তে একমুখী।
- ডায়োড একমুখী প্রবাহ চলতে দেয় — রেকটিফায়ারের মূল উপাদান।
- এক বা একাধিক ডায়োড সাজিয়ে তৈরি যন্ত্রটিই রেকটিফায়ার।
- বিপরীত কাজ (DC → AC) করে ইনভার্টার।
অনুরূপ উদাহরণ
| যন্ত্র |
কাজ |
| রেকটিফায়ার |
AC → DC |
| ইনভার্টার |
DC → AC |
| ট্রান্সফরমার |
AC ভোল্টেজ বাড়ায়/কমায় |
| অ্যামপ্লিফায়ার |
সংকেত বিবর্ধন |
মনে রাখার কৌশল
- Rectify = সোজা করা → AC-র উল্টাপাল্টা প্রবাহকে সোজা (DC) করে।
সাধারণ ভুল / ফাঁদ
- ডায়োড বেছে নেওয়া — ডায়োড উপাদান, সম্পূর্ণ যন্ত্র রেকটিফায়ার।
পরীক্ষার শর্টকাট
- AC→DC = রেকটিফায়ার; DC→AC = ইনভার্টার।
প্রশ্ন: বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে কোন যন্ত্র?
বিকল্প: (ক) লাউড স্পিকার ✓ • (খ) অ্যামপ্লিফায়ার • (গ) জেনারেটর • (ঘ) মাল্টিমিটার
এক লাইনে সংজ্ঞা / মূল ধারণা
লাউড স্পিকার বৈদ্যুতিক সংকেতকে কম্পনের মাধ্যমে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
ব্যাখ্যা / ধাপে ধাপে
- স্পিকারে বৈদ্যুতিক সংকেত একটি কয়েলে যায়।
- চুম্বকক্ষেত্রে কয়েলটি কম্পিত হয় → ডায়াফ্রাম কাঁপে।
- ডায়াফ্রামের কম্পন বাতাসে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- ফলাফল: বিদ্যুৎ শক্তি → শব্দ শক্তি।
অনুরূপ উদাহরণ
| যন্ত্র |
শক্তি রূপান্তর |
| লাউড স্পিকার |
বিদ্যুৎ → শব্দ |
| মাইক্রোফোন |
শব্দ → বিদ্যুৎ |
| জেনারেটর |
যান্ত্রিক → বিদ্যুৎ |
| বৈদ্যুতিক মোটর |
বিদ্যুৎ → যান্ত্রিক |
মনে রাখার কৌশল
- স্পিকার ও মাইক্রোফোন পরস্পরের উল্টো — একটি শব্দ বানায়, অন্যটি ধরে।
সাধারণ ভুল / ফাঁদ
- অ্যামপ্লিফায়ার বেছে নেওয়া — এটি সংকেত বিবর্ধন করে, শব্দে রূপান্তর নয়।
পরীক্ষার শর্টকাট
- বিদ্যুৎ→শব্দ = স্পিকার; শব্দ→বিদ্যুৎ = মাইক্রোফোন।
টপিকটি গভীরে শিখুন
তড়িৎ, চৌম্বকত্ব ও ইলেকট্রনিক্স — মূল লেকচার শিট — চার্জ, প্রবাহ, ভোল্টেজ ও রোধ, ওহমের সূত্র ও ক্ষমতার হিসাব, AC vs DC, রেকটিফায়ার ও ইনভার্টার, ট্রান্সফরমার, তড়িৎ বিশ্লেষণ ও অ্যানোড-ক্যাথোড বিক্রিয়া, চুম্বকত্ব ও তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ, সেমিকন্ডাক্টর-ডায়োড-ট্রানজিস্টর, শক্তির রূপান্তরকারী যন্ত্রসমূহ — পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।