৪০তম BCS — পদার্থের অবস্থা ও পরিবর্তন (২টি প্রশ্ন)
এই পরীক্ষায় এই টপিক থেকে ২টি প্রশ্ন — কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা যাচাই ও প্লবতা।
প্রশ্ন: কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা কীসের মাধ্যমে নির্ণয় হয়?
বিকল্প: (ক) ঘনীভবন • (খ) বাষ্পীভবন • (গ) গলনাংক ✓ • (ঘ) স্ফুটনাংক
এক লাইনে সংজ্ঞা / মূল ধারণা
বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের একটি নির্দিষ্ট, তীক্ষ্ণ গলনাংক থাকে — তাই গলনাংকই বিশুদ্ধতার মানদণ্ড।
ব্যাখ্যা / ধাপে ধাপে
- প্রতিটি বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে — এটি তার গলনাংক।
- পদার্থে অবিশুদ্ধতা মিশে থাকলে গলনাংক কমে যায় এবং একটি তাপমাত্রা পরিসরে গলে (তীক্ষ্ণ থাকে না)।
- তাই গলনাংক মেপে বিশুদ্ধতা যাচাই করা যায় — তীক্ষ্ণ ও প্রত্যাশিত মান হলে বিশুদ্ধ।
- স্ফুটনাংক তরলের জন্য প্রযোজ্য; কঠিনের বিশুদ্ধতায় গলনাংকই উপযুক্ত।
অনুরূপ উদাহরণ
| পদার্থ |
গলনাংক (বিশুদ্ধ) |
অবিশুদ্ধ হলে |
| বরফ (পানি) |
০°C |
লবণ মিশলে কমে যায় |
| বিশুদ্ধ স্বর্ণ |
১০৬৪°C |
খাদ মিশলে কমে |
| ন্যাপথালিন |
৮০°C |
অবিশুদ্ধ হলে পরিসরে গলে |
মনে রাখার কৌশল
- কঠিন → গলনাংক, তরল → স্ফুটনাংক দিয়ে বিশুদ্ধতা।
- অবিশুদ্ধতা = গলনাংক কমে + তীক্ষ্ণতা হারায়।
সাধারণ ভুল / ফাঁদ
- স্ফুটনাংক বেছে নেওয়া — সেটি তরলের জন্য, প্রশ্নে 'কঠিন পদার্থ' বলা আছে।
- ঘনীভবন/বাষ্পীভবন অবস্থার পরিবর্তন, বিশুদ্ধতার পরিমাপ নয়।
পরীক্ষার শর্টকাট
- বিশুদ্ধ কঠিন = তীক্ষ্ণ নির্দিষ্ট গলনাংক; অবিশুদ্ধ = কম ও বিস্তৃত গলনাংক।
প্রশ্ন: কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
বিকল্প: (ক) পুকুরে • (খ) খালে • (গ) নদীতে • (ঘ) সাগরে ✓
এক লাইনে সংজ্ঞা / মূল ধারণা
সাগরের লবণাক্ত পানির ঘনত্ব বেশি → প্লবতা (buoyancy) বেশি, তাই সাঁতার কাটা সহজ।
ব্যাখ্যা / ধাপে ধাপে
- আর্কিমিডিসের নীতি: কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত হলে যে আয়তন তরল সরায়, তার ওজনের সমান ঊর্ধ্বমুখী বল পায়।
- প্লবতা বল = সরানো তরলের ঘনত্ব × আয়তন × g — তাই ঘনত্ব বেশি হলে প্লবতা বেশি।
- সাগরের পানিতে লবণ দ্রবীভূত থাকায় এর ঘনত্ব মিষ্টি পানির চেয়ে বেশি।
- ফলে সাগরে শরীর বেশি ভেসে থাকে — সাঁতার ও ভেসে থাকা সহজ।
অনুরূপ উদাহরণ
| জলাশয় |
পানির ধরন |
ঘনত্ব |
প্লবতা |
| পুকুর/নদী/খাল |
মিষ্টি পানি |
কম (~১০০০ kg/m³) |
কম |
| সাগর |
লবণাক্ত পানি |
বেশি (~১০২৫ kg/m³) |
বেশি |
| মৃত সাগর (Dead Sea) |
অতি লবণাক্ত |
অনেক বেশি |
মানুষ এমনিতেই ভাসে |
মনে রাখার কৌশল
- লবণ বেশি → ঘনত্ব বেশি → ভাসা সহজ। মৃত সাগরের কথা মনে রাখুন।
সাধারণ ভুল / ফাঁদ
- নদীর স্রোতকে কারণ ভাবা — মূল কারণ পানির ঘনত্ব, স্রোত নয়।
পরীক্ষার শর্টকাট
- লবণাক্ত পানি = বেশি ঘনত্ব = বেশি প্লবতা = সাঁতার সহজ।
টপিকটি গভীরে শিখুন
পদার্থের অবস্থা ও পরিবর্তন — মূল লেকচার শিট — পদার্থের তিন অবস্থা ও প্লাজমা, অবস্থার পরিবর্তন (গলন, স্ফুটন, ঘনীভবন, ঊর্ধ্বপাতন), গলনাংক-স্ফুটনাংক ও বিশুদ্ধতা, ঘনত্ব ও আপেক্ষিক গুরুত্ব, আর্কিমিডিসের নীতি ও প্লবতা, চাপ ও তরলের ধর্ম — পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।