Loading...
Loading...
এই পরীক্ষায় এই টপিক থেকে ৩টি প্রশ্ন এসেছে — দ্বিরুক্ত শব্দ, অক্ষর (syllable) গণনা, এবং দ্বিস্বরধ্বনি চেনা। তিনটিই বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের গোড়ার বিষয়।
বিকল্প: (ক) ছমছম ✓ • (খ) ঝমঝম • (গ) টিকটিক • (ঘ) ঠিক ঠিক
একই শব্দ বা ধ্বনি দু'বার বলা = দ্বিরুক্ত। বাংলায় দ্বিরুক্ত শব্দ পাঁচ রকমের অর্থ প্রকাশ করে — পরীক্ষার্থীর জন্য এটিই আসল trick।
| ধরন | উদাহরণ | অর্থ |
|---|---|---|
| ১. ভাবগভীরতা | হায় হায় | শোক/দুঃখ |
| ২. পৌনঃপুনিকতা | বার বার, ঘন ঘন | বারংবার |
| ৩. অনুভূতি/মনোভাব | ছমছম, কনকন | শরীর/মন কেমন লাগছে |
| ৪. বিশেষণ-বোধক | পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি | অবস্থা |
| ৫. ধ্বনি-অনুকরণ | ঝমঝম, মড়মড়, চুকচুক | বাহ্যিক শব্দ |
অনুভূতি = শরীরের ভেতরের ফিল। ছমছম, কনকন (ঠাণ্ডা), শিরশির, কাঁপকাঁপ — সব 'শরীর বলে দিচ্ছে'। ধ্বনি-অনুকরণ = 'কান দিয়ে শুনছি'। দু'টোর মাঝে দ্বিধা হলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন — শব্দটা কান দিয়ে শুনছি, না শরীর দিয়ে অনুভব করছি?
দ্বিরুক্ত প্রশ্নে সব অপশন দ্বিরুক্ত শব্দই হয় — পার্থক্য ধরন-এ। প্রশ্নের 'অনুভূতিজাত / ধ্বনিজাত / পৌনঃপুনিক' শব্দটি বুঝে অপশন বাছুন।
বিকল্প: (ক) ৫ • (খ) ৬ ✓ • (গ) ৭ • (ঘ) ৮
অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকেই অক্ষর/syllable বলে। ইংরেজিতে syllable, বাংলায় 'অক্ষর' বা 'শব্দাংশ' নামেও পরিচিত।
বর্ণ (letter) ≠ অক্ষর (syllable)। 'বিশ্ব' শব্দে বর্ণ ৫টি (ব+ি+শ+্+ব), কিন্তু অক্ষর মাত্র ২টি — বিশ্-ব।
প্রতিটি স্বরধ্বনি একটি অক্ষরের কেন্দ্র। পূর্বের ব্যঞ্জন (যদি থাকে) সেই স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্ষর গঠন করে।
| অক্ষর | উচ্চারণ |
|---|---|
| ১ | অন্ |
| ২ | তোর্ |
| ৩ | ভুক্ |
| ৪ | তি |
| ৫ | মূ |
| ৬ | লক |
মোট = ৬টি
'স্বর গণনা = অক্ষর গণনা'। শব্দে যতগুলো 'উচ্চারণযোগ্য স্বর' আছে — ততগুলোই অক্ষর। আস্তে আস্তে উচ্চারণ করে স্বর-ব্রেক চিহ্নিত করুন।
সন্দেহ হলে শব্দটি একবার মাঝারি গতিতে পড়ুন এবং তালি দিন — প্রতিটি তালি = ১ অক্ষর।
বিকল্প: (ক) তিসি • (খ) মালি • (গ) লাউ ✓ • (ঘ) মেয়ে
পূর্ণ স্বরধ্বনি + অর্ধস্বরধ্বনি একসাথে এক অক্ষরে উচ্চারিত হলে — দ্বিস্বরধ্বনি।
বাংলায় দ্বিস্বরধ্বনির জন্য নির্দিষ্ট বর্ণ আছে দুটি — ঐ এবং ঔ।
তবে এর বাইরেও 'আই', 'আউ', 'ওই', 'উই' ইত্যাদি জোড়া স্বরে দ্বিস্বরধ্বনি তৈরি হয়।
| শব্দ | ভাঙি | ফলাফল |
|---|---|---|
| তিসি | ত্-ই-স্-ই | দুটি আলাদা ই, পৃথক অক্ষর — দ্বিস্বর নয় |
| মালি | ম্-আ-ল্-ই | আ ও ই পৃথক অক্ষরে — দ্বিস্বর নয় |
| লাউ | ল্-আউ | আউ একসাথে = দ্বিস্বরধ্বনি ✓ |
| মেয়ে | ম্-এ-য়্-এ | দুটি আলাদা এ — দ্বিস্বর নয় |
অনেকেই 'মেয়ে' বা 'নৌকা'-কে দ্বিস্বর ভাবেন। 'মেয়ে'-তে দুটি 'এ' আছে কিন্তু পৃথক অক্ষরে; 'নৌকা'-তে 'ঔ' আছে — এটি দ্বিস্বর। অপশনে 'নৌকা' এলে সেটি ঠিক হত।
এক নিঃশ্বাসে দু'টি স্বরধ্বনি একসাথে = দ্বিস্বর। 'লাউ' উচ্চারণ করুন — মুখ একবার খোলে, দু'টি স্বর শোনা যায়। 'মালি'-তে 'আ' ও 'ই' আলাদা ধাক্কায় আসে।
ভাষা, বর্ণ ও ধ্বনি — মূল লেকচার শিট — বাংলা বর্ণমালার পূর্ণাঙ্গ গঠন (১১ স্বর + ৩৯ ব্যঞ্জন), মৌলিক স্বরধ্বনি (৭টি), যৌগিক স্বরধ্বনি, হ্রস্ব/দীর্ঘ স্বর, ছন্দের ৩ প্রকার, ধ্বনি পরিবর্তনের সম্পূর্ণ তালিকা, অক্ষর-বিভাজনের সূত্র।