Loading...
Loading...
কুরবানির ইতিহাস শুরু হয়েছে ইব্রাহীম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.) এর এক অতুলনীয় আত্মত্যাগের ঘটনা থেকে। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী ইব্রাহীম (আ.) কে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন — প্রিয় সন্তানকে কুরবানির আদেশ দিলেন। পিতা ও পুত্র উভয়েই এই পরীক্ষায় সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেন এবং আল্লাহ তাঁদের এই ত্যাগ কবুল করে ইসমাঈল (আ.) এর বদলে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন।
কুরআনুল কারীমের সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১০০-১১১) এ এই পূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
১. বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভ: ইব্রাহীম (আ.) দীর্ঘদিন সন্তানহীন ছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর কাছে দুআ করলেন। আল্লাহ তাঁকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলেন — ইসমাঈল (আ.)।
২. স্বপ্নে কুরবানির আদেশ: যখন ইসমাঈল (আ.) বড় হয়ে পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছলেন, তখন ইব্রাহীম (আ.) স্বপ্নে দেখলেন তিনি তাঁর পুত্রকে জবাই করছেন। নবীদের স্বপ্ন ওহীর অংশ — তাই এটি ছিল আল্লাহর সরাসরি আদেশ।
৩. পুত্রকে জানানো ও পুত্রের সম্মতি:
يَـٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰ
"হে প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে যবেহ করছি। তোমার অভিমত কী বলো?" — সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১০২)
ইসমাঈল (আ.) এর উত্তর ছিল ঈমানের এক অনন্য নিদর্শন:
يَـٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّـٰبِرِينَ
"হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।" — সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১০২)
৪. জবাইয়ের প্রস্তুতি: পিতা পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন। ইব্রাহীম (আ.) পূর্ণ প্রস্তুতি নিলেন। এটি ছিল আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্যের চূড়ান্ত মুহূর্ত।
৫. আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও দুম্বা পাঠানো: যখন দুজনেই পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেন, আল্লাহ ডেকে বললেন — "তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ।" আল্লাহ ইসমাঈল (আ.) এর পরিবর্তে একটি মহান দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন:
وَفَدَيْنَـٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
"আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানির বিনিময়ে।" — সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১০৭)
কুরবানি শুধু পশু জবাই নয়। আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন:
لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَـٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقْوَىٰ مِنكُمْ
"আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।" — সূরা হজ্জ (২২:৩৭)