Loading...
Loading...
ঈদুল আযহা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয় — এর একটি বিশাল সামাজিক দিক আছে। কুরবানির গোশত বণ্টন, গরিবদের খাওয়ানো, প্রতিবেশীর হক আদায় এবং পশুর প্রতি দয়া — এই সবকিছু ঈদুল আযহার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলাম শুধু ইবাদতের ধর্ম নয়, সামাজিক দায়িত্বের ধর্মও।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"সে ব্যক্তি (পূর্ণ) মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে।" — আল-আদাবুল মুফরাদ (ইমাম বুখারী)
কুরবানির গোশত বণ্টনে গরিব প্রতিবেশীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেক পরিবার সারা বছর গোশত খেতে পারে না — ঈদুল আযহা তাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। গোশতের ১/৩ অংশ গরিব-মিসকিনদের জন্য বরাদ্দ রাখা মুস্তাহাব।
অনেকে মনে করেন কুরবানির গোশত শুধু মুসলিমদের দেওয়া যায়। কিন্তু ফিকহের দৃষ্টিতে অমুসলিম প্রতিবেশীকেও কুরবানির গোশত দেওয়া জায়েয এবং উত্তম। এটি প্রতিবেশীর হক আদায় এবং ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশের অংশ। ওমর (রা.) তাঁর ইহুদি প্রতিবেশীকে কুরবানির গোশত পাঠিয়েছিলেন।
ঈদের দিনে সমাজের এতিম শিশু ও বিধবাদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমি ও এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব" — তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল একসাথে দেখালেন। (বুখারী)
ইসলামে জবাইয়ের সময় পশুর প্রতি সর্বোচ্চ দয়া দেখানো ফরজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুতে ইহসান (সুন্দরভাবে করা) ফরজ করেছেন। তোমরা যখন জবাই করবে, সুন্দরভাবে জবাই করো। তোমাদের প্রত্যেকে তার ছুরি ধারালো করুক এবং তার পশুকে আরাম দিক।" — সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৫৫
| নং | আদব | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | ছুরি ধারালো করা | জবাইয়ের আগেই ভালোভাবে ধার দিতে হবে — যেন পশুর কষ্ট কম হয় |
| ২ | পশুর সামনে ছুরি ধারালো না করা | পশুকে ভয় না দেওয়া |
| ৩ | একটি পশুর সামনে অন্যটি জবাই না করা | অন্য পশুকে ভয় পাওয়ানো মাকরূহ |
| ৪ | কিবলামুখী করে শোয়ানো | বাম কাতে শুইয়ে মুখ কিবলার দিকে করা |
| ৫ | বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলা | "আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ" — বলে জবাই করা |
| ৬ | প্রাণ বের হওয়ার আগে চামড়া না ছাড়ানো | পশুর প্রাণ সম্পূর্ণ বের হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা অঙ্গ কাটা শুরু করা হারাম |