“বৈশাখের একদিনের রাজা”......
গ্রামের নাম কাশিপুর। প্রতি বছর বৈশাখ এলেই এখানে একটা অদ্ভুত নিয়ম পালন করা হয়—
সারা বছরের জন্য একজন গরিব মানুষকে “একদিনের রাজা” বানানো হয়।
এই বছর সেই সুযোগটা পেলো রহিম—একজন সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ।
সারা বছর মানুষের বাড়িতে কাজ করে, কিন্তু নিজের ঘরে ঠিকমতো খাবারও জোটে না।
ঘোষণা হতেই পুরো গ্রাম উত্তেজনায় ভরে উঠলো।
রহিমকে নতুন পাঞ্জাবি পরানো হলো, মাথায় ফুলের মুকুট, আর হাতে একটা কাঠের রাজদণ্ড।
সবাই তাকে “রাজা সাহেব” বলে ডাকতে লাগলো।
রহিম প্রথমে লজ্জা পেলেও, ধীরে ধীরে তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো—
এই প্রথম সে নিজেকে “কেউ একজন” মনে করছে।
মেলা বসলো। পান্তা-ইলিশ, নাগরদোলা, বাঁশির সুর—সবকিছু জমে উঠেছে।
কিন্তু রহিম হঠাৎ একটা ঘোষণা দিলো—
—“আজ আমি রাজা। আমি একটা নতুন নিয়ম করবো।”
সবাই চুপ হয়ে গেল।
রহিম বললো,
—“আজ কেউ টাকা দিয়ে কিছু কিনবে না। যার যা দরকার, সে তা বিনামূল্যে পাবে।”
গ্রামবাসী প্রথমে অবাক, তারপর একটু অস্বস্তি।
কিন্তু যেহেতু এটা “একদিনের রাজা”-র আদেশ, তাই কেউ বাধা দিলো না।
মেলার দোকানদাররা বিনা পয়সায় খাবার দিতে শুরু করলো।
একজন বুড়ো লোক অনেকদিন পর পেট ভরে খেতে পারলো।
একটা ছোট মেয়ে তার পছন্দের পুতুলটা নিয়ে হাসতে লাগলো।
পুরো গ্রাম যেন অন্যরকম হয়ে গেল—
এখানে আর ধনী-গরিবের পার্থক্য নেই, সবাই শুধু মানুষ।
বিকেলের দিকে এক ধনী ব্যবসায়ী রেগে গিয়ে বললো,
—“এভাবে চললে আমাদের ক্ষতি হবে!”
রহিম শান্তভাবে বললো,
—“একদিন ক্ষতি করলে যদি একশো জনের মুখে হাসি ফোটে, তাহলে সেটা কি আসলেই ক্ষতি?”
কথাটা শুনে লোকটা চুপ হয়ে গেল।
সূর্য ডুবে গেল। রাজত্বের সময় শেষ।
রহিম আবার তার পুরনো কাপড়ে ফিরে এলো।
কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার—
কেউ তাকে আর “রহিম” বলে ডাকছে না, সবাই এখনো “রাজা” বলেই ডাকছে।
পরের দিন গ্রামে একটা পরিবর্তন দেখা গেল—
দোকানদাররা দরিদ্রদের জন্য আলাদা খাবার রাখতে শুরু করলো,
মানুষ একে অপরকে সাহায্য করতে লাগলো।
কারণ তারা বুঝেছে—
**রাজা হওয়া মানে ক্ষমতা না, মানুষের পাশে দাঁড়ানো।**
রহিম আবার সাধারণ মানুষ হয়ে গেলেও,
তার সেই একদিনের রাজত্ব পুরো গ্রামের মন বদলে দিলো।
Comments (0)
Login to leave a comment.