বৈশাখের ক্যানভাসে আঁকা দিনলিপি
স্মৃতির ক্যানভাসে কিছু রঙ কখনো ফিকে হয় না। আজ যখন পঞ্জিকার পাতা উল্টে নতুন বৈশাখ দোরগোড়ায়, তখন বারবার গত বছরের সেই দিনটির কথা মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে, এই তো সেদিনের কথা!
গতবারের বৈশাখটা ছিল আমার কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই লাল পেড়ে সাদা শাড়িটা পরার আনন্দ আজও সতেজ। শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে যেন মিশে ছিল উৎসবের শিহরণ। চুলে গোঁজা ফুল আর কপালে লাল টিপ—সব মিলিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হচ্ছিল, আমি যেন এক টুকরো বৈশাখী আল্পনা।
সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে আমাদের স্কুলের সেই প্রদর্শনীর কথা। ক্লাসরুমগুলো কেমন বদলে গিয়েছিল রঙিন কাগজ আর মাটির সরাচিত্রে! আমরা বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে ঘুরে দেখছিলাম সহপাঠীদের বানানো সব চমৎকার শিল্পকর্ম। সেই ভিড়ের মাঝে হাসাহাসি আর নিজেদের কাজ নিয়ে সবার বাহবা পাওয়া—সবই এখন আমার এক অমূল্য স্মৃতি।
দুপুরের চড়া রোদ উপেক্ষা করে যখন আমরা বন্ধুরা মিলে রাস্তায় নামলাম, চারদিকে যেন লাল-সাদার সমুদ্র। মেলায় গিয়ে মাটির গয়না দেখা, নাগরদোলার শব্দ আর সেই চিরচেনা জিলাপির ঘ্রাণ—সবই যেন এক জাদুর জগত। পথে যেতে যেতে চোখে পড়ল লাল মলাটের সেই 'হালখাতা'। দোকানের সামনে টাঙানো রঙিন নিশান আর ক্রেতাদের মিষ্টি মুখ করানোর সেই পুরনো ঐতিহ্য দেখে মনে মনে এক অদ্ভুত শান্তি পেয়েছিলাম।
ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে এক সময় যখন বিকেলে আমরা সবাই মিলে বসলাম, তখন চারপাশের উৎসবমুখর মানুষগুলোকে দেখে মনে হয়েছিল, আমরা বাঙালিরা বোধহয় এই একটা দিনেই সবচেয়ে বেশি নিজেদের খুঁজে পাই।
গতবারের সেই দিনটি এখন আমার ডায়েরির পাতায় বন্দি একগুচ্ছ রঙিন জলছবি। রোদ, ধুলো, শাড়ির আঁচল সামলানো আর বন্ধুদের সাথে সেই অন্তহীন আড্ডা—সব মিলিয়ে বৈশাখী ক্যানভাসে আঁকা সেই দিনলিপিটা আমার কাছে সব সময়ই খুব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Comments (0)
Login to leave a comment.