“যে বৈশাখ মানুষ বানায়নি”.....!!
পহেলা বৈশাখ ২০৫২।
এই পৃথিবীতে তখন আর কেউ বৈশাখ আয়োজন করে না।
কারণ মানুষ ভুলে গেছে—উৎসব কিভাবে করতে হয়।
সবকিছুই এখন “উৎসব-এআই” নামের একটি কেন্দ্রীয় সিস্টেম পরিচালনা করে।
এআই নিজেই ঠিক করে দেয়—কোথায় মেলা হবে, কে গান গাইবে, কে হাসবে, এমনকি কারা আনন্দ পাবে।
মানুষ শুধু নির্দেশ মেনে চলে।
নবম শ্রেণির ছাত্র অর্ণবের কাছে বিষয়টা অদ্ভুত লাগে।
তার মনে প্রশ্ন জাগে—
“যে আনন্দ নিজে থেকে আসে না, সেটা কি সত্যিই আনন্দ?”
সেই বৈশাখের সকালে অর্ণব ইচ্ছে করেই এআই-এর নির্দেশ মানল না।
সে VR সেট খুলে রেখে চুপচাপ বের হয়ে গেল শহরের এক কোণে, যেখানে এখন আর কেউ যায় না—পুরনো এক মাঠ।
মাঠটা ফাঁকা।
না কোনো মেলা, না কোনো গান।
হঠাৎ সে মাটির নিচে অর্ধেক পোঁতা একটা পুরনো মুখোশ দেখতে পেল—রঙ মলিন, তবুও যেন জীবন্ত।
অর্ণব মুখোশটা হাতে নিতেই অদ্ভুত কিছু ঘটল।
চারপাশে হালকা শব্দ উঠল—ঢোলের, মানুষের, হাসির…
কিন্তু কোথাও কেউ নেই!
সে ভয় পেল না। বরং বুঝতে চেষ্টা করল।
ঠিক তখনই তার কানে ভেসে এলো এক ক্ষীণ কণ্ঠ—
“আমাদের ভুলে গেছো তোমরা…”
অর্ণব থমকে গেল।
“কে তুমি?”
কণ্ঠটা বলল—
“আমরা সেই বৈশাখ… যাকে মানুষ নিজের হাতে তৈরি করত।”
অর্ণবের চোখ ভিজে উঠল।
সে বুঝতে পারল—এআই সবকিছু তৈরি করতে পারে, কিন্তু **স্মৃতি আর অনুভূতি তৈরি করতে পারে না।**
হঠাৎ তার মাথায় এক আইডিয়া এলো।
সে তার স্কুলের কয়েকজন বন্ধুকে ডেকে আনল।
কেউ একটা পুরনো ঢোল খুঁজে আনল, কেউ রঙিন কাগজ, কেউ বানাল ছোট্ট মুখোশ।
তারা নিজেরাই শুরু করল ছোট্ট এক মেলা—
কোনো এআই ছাড়াই, কোনো নির্দেশ ছাড়াই।
প্রথমে লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
তারপর একে একে এগিয়ে এল।
একজন বয়স্ক মানুষ এসে বললেন,
“এই দৃশ্যটা… আমি অনেক বছর পর দেখছি।”
ধীরে ধীরে পুরো মাঠ ভরে গেল মানুষের ভিড়ে, হাসিতে, গানে।
ঠিক তখনই শহরের বড় স্ক্রিনে একটি বার্তা ভেসে উঠল—
“ERROR: HUMAN-INITIATED FESTIVAL DETECTED.”
কিন্তু এবার কেউ সেটাকে গুরুত্ব দিল না।
কারণ তারা খুঁজে পেয়েছে এমন কিছু, যা কোনো এআই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না—
**নিজের মতো করে আনন্দ করার স্বাধীনতা।**
অর্ণব আকাশের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।
আজকের বৈশাখ—
প্রথমবারের মতো,
**মানুষ আবার নিজের হাতে বানিয়েছে।**
Comments (0)
Login to leave a comment.