যে দৃশ্য আজও ভুলতে পারিনি
জুলাই ২০২৪-এর একটি বিকেল আজও আমার স্পষ্ট মনে আছে। চারদিকে অস্থির পরিবেশ। মানুষ দ্রুত বাড়ি ফিরছিল, দোকানের শাটার নামানো হচ্ছিল, আর সবার মুখে ছিল উদ্বেগের ছাপ। আমিও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছিলাম।
হঠাৎ সামনে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গেল। সবাই নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই দেখি, ভিড়ের মধ্যে এক বৃদ্ধ মানুষ হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেলেন। ভয়ে কেউ তাঁর কাছে এগিয়ে যাচ্ছিল না। সবাই শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই ব্যস্ত।
ঠিক সেই সময় প্রায় পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর বয়সী এক যুবক দৌড়ে এসে বৃদ্ধের পাশে বসে পড়লেন। তিনি চারপাশের পরিস্থিতির কথা না ভেবে প্রথমে বৃদ্ধকে উঠিয়ে বসালেন। এরপর নিজের পানির বোতল থেকে তাঁকে পানি খাওয়ালেন। বৃদ্ধের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল, তাই যুবকটি তাঁর কাঁধে হাত রেখে ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানের দিকে নিয়ে যেতে লাগলেন।
পথে কয়েকজন তাঁকে বলছিলেন, “এখন থামবেন না, আগে নিজে নিরাপদ হন।” কিন্তু তিনি কারও কথা শুনলেন না। তাঁর একটাই কথা ছিল, “আমি চলে গেলে উনাকে কে নিয়ে যাবে?”
আমি কিছুটা দূর থেকে পুরো ঘটনাটি দেখছিলাম। যুবকটি অনেক কষ্ট করে বৃদ্ধকে একটি নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিলেন। সেখানে থাকা কয়েকজন মানুষও এগিয়ে এসে সাহায্য করলেন। বৃদ্ধ বারবার তাঁর হাত ধরে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন। কিন্তু যুবকটি শুধু হেসে বললেন, “এটা কোনো বড় কাজ নয়, মানুষ হিসেবে আমার দায়িত্ব।”
সেদিন আমি বুঝেছিলাম, সাহসিকতা শুধু বড় কোনো কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিপদের সময় নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে পিছিয়ে না গিয়ে অসহায় একজন মানুষকে সাহায্য করার মধ্যেও প্রকৃত সাহস লুকিয়ে থাকে।
আজও জুলাই ২০২৪-এর সেই বিকেলের কথা মনে পড়লে যুবকটির মুখ ভেসে ওঠে। তাঁর নাম আমি জানি না, কিন্তু তাঁর মানবিকতা ও সাহসিকতা আমার মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। সেই দিনের ঘটনাটি আমাকে শিখিয়েছে—সত্যিকারের সাহসী মানুষ তারাই, যারা কঠিন সময়েও অন্যের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করে না।
Comments (0)
Login to leave a comment.