কাছিপাড়া কলেজ মাঠের সেই অবিস্মরণীয় বৈশাখ
স্মৃতি মানুষের জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। আর সেই স্মৃতি যদি হয় মাটির টানে শেকড়ে ফেরার, তবে তার মাধুর্য হয় অন্যরকম। আমার শৈশব ও কৈশোরের অনেকটা সময় কেটেছে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে। বহু বছর আগের কথা হলেও ২০১৬ সালের সেই পহেলা বৈশাখের স্মৃতি আজও আমার চোখে উজ্জ্বল হয়ে ভাসে।
সেবার আমাদের এলাকার কাছিপাড়া অবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল বিশাল এক বৈশাখী মেলার। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সেই মেলাটি কেবল একদিনের জন্য ছিল না, চলেছিল টানা সাত দিন ব্যাপী। পুরো ইউনিয়ন যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। কাছিপাড়ার তো বটেই, এমনকি আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল আমাদের এই প্রাণের মেলায়।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল খাবারের আয়োজন। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল থেকেই মেলায় ধুম পড়ে গিয়েছিল পান্তা-ইলিশ খাওয়ার। সেখানে দোকানে দোকানে বিক্রি হচ্ছিল গরম গরম ভাজা ইলিশ মাছ, পান্তা ভাত আর হরেক রকমের জিভে জল আনা ভর্তা। সাথে ছিল আরও অনেক দেশি খাবারের সমারোহ। উৎসবের আমেজে সবাই মিলে মেলায় বসে সেই চিরচেনা খাবারের স্বাদ নেওয়ার তৃপ্তিই ছিল অন্যরকম।
মেলার সেই রঙিন দিনগুলোর কথা ভাবলে প্রথমেই মনে পড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা। কী ছিল না সেখানে! মাঠের এক কোণে প্যান্ডেল করে চলতো:
* ঐতিহ্যবাহী পালা গান ও যাত্রা।
* হৃদয় ছোঁয়া বাউল ও দেশাত্মবোধক গান।
* ছোট-বড় সবার মন মাতানো নৃত্য পরিবেশনা।
ঐতিহাসিক যাত্রাপালার মধ্যে হইছিলো :
১ নবাব সিরাজুলদৌলা
২ রানী কমলা বনবাস
৩ রাখাল ছেলে
৪ বেহুদা বাসরঘর
মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল নাগরদোলা। সেই নাগরদোলায় চড়ে আকাশ দেখার আনন্দই ছিল আলাদা। মাঠের চারপাশ জুড়ে বসেছিল সারি সারি দোকান— মাটির খেলনা, বাঁশি, চুড়ি, গ্রামীণ জীবন ব্যবহারিত জিনিস পত্র। আর রকমারি সব খাবারের সমাহার। আর বৈশাখের সকাল মানেই তো ছিল আসল ধুম! পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশ আর হরেক রকমের ভর্তার সেই স্বাদ যেন আজও মুখে লেগে আছে। উৎসবের আমেজে সবাই মিলে মেলায় বসে সেই দেশি খাবার খাওয়ার তৃপ্তি বলে বোঝানো সম্ভব নয়।সেই সাতটা দিন আমাদের কাছিপাড়া কলেজ মাঠ ছিল আনন্দ আর মিলনের এক মিলনমেলা। আজও যখন ক্যালেন্ডারের পাতায় পহেলা বৈশাখ আসে, তখন ২০১৬ সালের সেই রঙিন দিনগুলো আর বাউফলের মাটির ঘ্রাণ আমায় স্মৃতিকাতর করে তোলে।"
আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান। বাউফল, পটুয়াখালী ।
Comments (0)
Login to leave a comment.