কোনো এক বৈশাখে
নূরশা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই লেগে পড়েছে মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতিত। কীসের মেলা? বৈশাখী মেলা। নূর শার কুড়েঘর থেকে পাঁচ-ছয় মিনিটের রাস্তা হাঁটলেই নদীর ওপারে পৌঁছালেই মেলা। নুরশা তার কাচের ছোট্ট আয়নায় মুখ দেখে আর চুল আঁচড়ায়। ফর্সা মুখখানি লাল টুকটুকে লিপস্টিকে দারুন লাগছে। ঠোঁটের পাশের তিল খানা যেন আরও ফুটে উঠছে। চোখের নিচের হালকা সুরমা আর টোলপড়া দুই গালে ব্লাশেন নিয়ে নিজেকে যেন চিনতেই পারছে না। লাল-সাদা একটা শাড়ি আর হাতে রঙিন চুরিতে, রূপ মেন ফেটে পড়ছে।অপূর্ব নকশা করা স্যান্ডেল পায়ে আস্তে আস্তে হেঁটে চলছে মেলার উদ্দেশ্যে। হাতে গজা আর মুড়কি কিনে ;২০ টাকা দিয়ে নাগরদোলায় উঠেছে। মনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে।নাগরদোলার ধীরে ধীরে গতি বাড়ছে আর চিৎকারও বেড়ে চলেছে। নাগরদোলা থেকে নেমে মনে তালে তালে বাজছে,
"আজ হারিয়ে যাওয়াল নেই মানা, মনে মনে....
নূরশার বরাবরই টেপা পুতুল, মাটির খেলনা, শখের হাঁড়ি, বেতের ঝুড়ি, বেতের ব্যাগ, বাঁশের ফুলদানি ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। তার আজ সারদিনই একটা কবিতার লাইন খুব মনে পড়ছে। তা হলো-
"বৈশাখী মেলায় বায়োস্কোপের খেলা নাগরদোলায় মন ভাসে সারাবেলা।"
এখন, নূরশা হাঁটছে পুতুলনাচের মঞ্চের দিকে ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে, ৫ টাকার বাদাম কিনে অনেক মজার সাথে পুতুলনাচ দেখা শেষ করলো। তার শাড়িটা যেন সবার নজর কেড়েছে। এতোটা বাঙালিয়ানা ভাব আধুনিককালের নববর্ষে সাধারনত গ্রামেই দেখা যায়। অনেক মজা হলো, এখন সময় হলো বাড়ি ফেরার। রাস্তায় পরিচিত এক দোকানি০ ডেকে বললো দোকানে একটু বসতে, গরম গরম সিঙ্গারা, রসগোল্লা আর কাঁচা আমের সরবতের সাথে নূরশাকে আপ্যায়ন অতি যত্নে আদর করলো।, এখনকার দিনেও যে ''হালখাতা "উৎসব প্রচলিত আছে দেখে নূরশা খুব অবাক হলো। তার বকেয়া ৪০ টাকা ও দোকানিকে পরিশোধ করে দিলো। এতো আতিথেয়তায় বাড়িতে ফিরে প্রশংসা করতে করতে পঞ্চমুখ। সারারাত ভিজিয়ে রাখা পান্তা ভাতের সাথে গরম গরম ইলিশ ভেজে, মরিচ, পেঁয়াজ আর আমের আচারের ঝোল দিয়ে অনেক মজা করে খাওয়াদাওয়া করলো রাত ভরে বানানো কাগজের হাতপাখা আর মুখোশ হাতে, শাড়ির পাড় ওড়াতে ওড়াতে
ছুটে চললো মাঠের দিকে। মাঠের ধারের দিকের রাস্তায় শোভাযাত্রায়,কয়েকজন হিন্দু লোক । কিছুক্ষণ পর তার সখী রা মাঠে এলো। মাঠের ধারের দোকান থেকে গরম গরম জিলাপি কিনে, খেতে খেতে ঘুড়ি ওড়ানোর রেস করলো। ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে নূরশারও ইচ্ছে হলো ঘুড়ির সাথে উড়ে যেতে অজানা গন্তব্যের দিকে। আহা! বছরের প্রথম দিনের মতোই যদি প্রতিটা দিন পালন করা হতো।
Comments (0)
Login to leave a comment.