(কোরবান)
( কোরবান )
বছর ঘুরে এলো, এলো ‘কোরবানি’
চারিদিকে শুধু আজ, তাকওয়ার ধ্বনি।
বছর ঘুরে এলো, এলো ‘কোরবানি’ ।
প্রতি বছর কোরবানি আসলে সাদিক ভীষণ খুশি হয় কিন্তু এবারে সাদিকের খুশি কান্নায় রূপ নিচ্ছে।
সাদিক তার বাবাকে বলে, “বাবা, টাট্টুকে কোরবানি না দিলে হয় না?”
সাদিক তার পোষা ছাগলটির নাম রেখেছে, টাট্টু!
এদিকে পরিবারে সাদিকের সেই প্রিয় ছাগলটি কোরবানি দেওয়ার পরামর্শ চলছে। সাদিক এই ছাগলটিকে নিজ হাতে খাওয়ায়, তাই কিনা সাদিকের সাথে ছাগলটির একটা গভীর ভালোবাসা জন্মে গেছে মনের অজান্তেই । সাদিক ছাগলের গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে খাবার খাওয়ায়, আবার ছাগলটিও আদরের সাথে সাদিকের হাত চেটে দেয়। ওহ, সে কি দারুণ আনন্দের স্মৃতি !
সাদিকের বয়স এখনো বেশ অল্প, সবে মাত্র ছয় বছর উত্তীর্ণ হলো তার । সাদিকের কথা শুনে তার বাবা রমজান মুচকি হাসে। এমন সময় সাদিকের বাবা সাদিককে বলে, বলো তো সাদিক আমাদের সৃষ্টিকর্তা কে?
-আল্লাহ পাক, সাদিক বলে।
তাহলে বলো তো, আমরা নামাজ-রোজা এমন ইবাদত কেন করি?
সাদিক বলে, ‘আল্লাহ’র জন্যে’।
তেমনি কোরবানির ঈদে হালাল পশু কোরবানি করাও মহান আল্লাহ’র আদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
-সাদিক বলে ওঠে , ‘তাহলে তো বাবা, আমাদের উচিত আল্লাহ’র আদেশ পালন করা’ ।
হ্যাঁ ঠিক তাই, ‘সাদিকের বাবা বলে ওঠে’।
এবার সাদিক বলে, “বাবা, কোরবানি করে কি হয়?”
জিজ্ঞাসু চোখে আর কৌতুহলী মনে জিজ্ঞেস করে উত্তরের আশায় বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে সাদিক।
সাদিক, কোরবানি করলে আল্লাহ খুশী হয়। কোরবানি তে আমরা আত্মীয়-স্বজন,গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে গোশত বন্টন করে আনন্দ ভাগাভাগি করি। সাদিক তুমি কি লক্ষ্য করেছো যে, মহান আল্লাহ পাক কোরবানির এমন ত্যাগের মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে ভালোবাসা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি বাড়ে এমন ব্যবস্থা করেছেন ।
তাহলে বাবা, আল্লাহ পাক আমাদের জন্যতো অনেক চমৎকার ব্যবস্থা করেছেন। মাশ-আল্লাহ!
তুমি জানো, এছাড়াও কোরবানিতে আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন অনেক শিক্ষণীয় বিষয়।
বুঝেছো, সাদিক? সাদিকের বাবা সাদিকের উদ্দেশ্যে বলে।
হ্যাঁ, বাবা বুঝেছি।
-তাহলে বাবা, টাট্টুর গোশত আমি নিজ হাতে বিলি করতে চাই!
- ঠিক আছে, খুকুসোনা আমার ।
সাদিক খুশি হয় এই ভেবে যে, সে প্রিয় ছাগলের মাংস আল্লাহ’র জন্য কোরবানি দিয়ে আত্মীয়-স্বজন, গরীব-দুঃখী মানুষদের কে বিতরণ করতে পারবে নিজ হাতে। রমজান তার ছেলের শুভ বোধ উপলব্ধি করতে পেরে আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করে।
আজ, কোরবানির জন্য টাট্টু কে নিয়ে যাওয়ার সময় সাদিক যখন প্রিয় ছাগলের চোখের দিকে তাকায় তখন সেই নিঃশব্দ চোখের ভাষায় ছলছল করে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা কয়েক ফোটা পানি দেখা যাচ্ছে৷
তবু আল্লাহ’র জন্য নিবেদিত প্রিয় ছাগলের পানে তাকিয়ে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে সাদিকের।
অবলা প্রাণীটির চোখের ভাষা সাদিকের চোখে-মুখেও প্রতিফলিত হচ্ছে! যেথায় বিরাজ করছে ত্যাগ-সহানুভূতি, ভালোবাসাসহ অসাধারণ যতো অনুভূতি।
রচনাকালঃ মে , ২০২৬ ঈসায়ী।
Comments (0)
Login to leave a comment.