McDonald’s-এর অপ্রত্যাশিত শুরু ও বাড়ার গল্প

McDonald’s- এর ব্যবসার বৃদ্ধির একটা বেশ মজার ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প আছে। নিচে কিছু বিশেষ ও অপ্রচলিত দিক তুলে ধরা হলো:
McDonald’s-এর অপ্রত্যাশিত শুরু ও বাড়ার গল্প
ভাই দুই জনের স্বপ্ন
McDonald’s শুরু করেছিলেন Richard ও Maurice McDonald নামে দুই ভাই। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল বড় কিছু করা — কিন্তু তারা শুরু করেছিলেন একটি সাধারণ বারবিকিউ রেস্তোরাঁ থেকে, যেটি “drive-in” ধাঁচে চালাতেন। 
তারা ১৯৪৮ সালে তাদের রেস্তোরাঁর অপারেশনকে পুরোপুরি পরিবর্তন করেন, সবকিছু সরল করে, মেনু কমিয়ে, এবং দ্রুত পরিষেবার দিকে মনোযোগ দিয়ে — যাকে তারা বলেছিলেন “Speedee Service System”। 
Ray Kroc — সেই বিক্রেতা যিনি রেসিপি বিক্রি করছিলেন, কিন্তু পরিশেষে নিজেই মালিক হয়ে গেলেন
Ray Kroc ছিল একটি যন্ত্র বিক্রেতা — বিশেষত মিল্কশেক তৈরি যন্ত্র। তিনি জানতে পারলেন McDonald ভাইরা বেশ কিছু যন্ত্র তাঁর কোম্পানির দিক থেকে কিনেছেন এবং তাদের মডেল খুব দক্ষভাবে কাজ করছে। তাই 1954 সালে তিনি তাদের কাছে যান এবং প্রস্তাব করেন — তাদের অপারেশনকে আরও বিস্তারের “ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল”-এ আনিয়ে দিতে। 
পরবর্তীতে, Kroc 1961 সালে ভাইদের কোম্পানির অধিকার কিনে নেন মাত্র $2.7 মিলিয়ন-এ (তার সময়কার দামে)। 
এরপর তিনি McDonald’s কে এমনভাবে গড়েন, যাতে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয় — স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন, প্রতিটি রেস্তোরাঁতেই একই মান, দ্রুত সেবা, সঠিক প্রশিক্ষণ — সব কিছু নিয়মে বাঁধা। 
ফ্র্যাঞ্চাইজি হলো তেলার মতো জ্বলতি — বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে
McDonald’s-এর বিস্তার অনেকটাই তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল-এর কারণে। প্রায় ৮০% রেস্তোরাঁ অন্য ব্যক্তি (ফ্র্যাঞ্চাইজিস) দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে McDonald’s মূল নীতি, মান, ব্র্যান্ড নিয়ন্ত্রণ রাখে। 
এই মডেলে, McDonald’s শুধু বিক্রি থেকে অর্থ আয় করে না — তারা অনেক রেস্তোরাঁর ভূমি ও ভবনই নিজেরাই মালিক থাকে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিসকে ভাড়া দেয়। অর্থাৎ রিয়েল এস্টেটও একটি বড় উৎস। 
মজার “Olympic McDonald’s” — অস্থায়ী কিন্তু বিরল
২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকস-এ McDonald’s একটি বিশেষ “pop-up” (অস্থায়ী) রেস্তোরাঁ তৈরি করেছিল — যা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় McDonald’s সেই সময়ে। কেবলমাত্র ষাট দিনের জন্য তা চালানো হয়েছিল। 
ঐ রেস্তোরাঁ দিনে প্রায় ১৪,০০০ জন গ্রাহক সেবা পেত — এবং এরপর বিলুপ্ত করা হয়। 
ট্যাগলাইন, লোগো এবং “Golden Arches”
McDonald’s-এর লোগো “গোল্ডেন আর্কস” — সেই বিখ্যাত “M” — শুধুই সাজসজ্জা না, ব্র্যান্ড-মেমোরির একটি অংশ। আর্কস প্রথম “বিল্ডিং আর্কিটেকচারে” ব্যবহৃত হয়, এবং পরে লোগোতে উদ্বর্তিত হয়। 
একটি মজার দিক — একটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকারী বলেছিলেন যে এই আর্কস মানুষের অবচেতন মন পারে মা (mother) শব্দের সাথে যুক্ত করে — অর্থাৎ একটি “আলোহিত অভিভাবক” ইমেজ দেয় — যা ব্র্যান্ড ইমেজ গঠনে সাহায্য করে। 
চ্যালেঞ্জ ও এমন দেশে অনুপস্থিতি — বাংলাদেশ
মজার হলেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, McDonald’s এখনও বাংলাদেশে কার্যকরভাবে নেই — অর্থাৎ এখানে তারা বড় কোনও রেস্তোরাঁ ও ব্রাঞ্চ চালায় না। 
এর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রতিটি McDonald’s রেস্তোরাঁর জন্য নির্ধারিত উচ্চমানের ফ্রিজ, কুলিং চেইন ও রেফ্রিজারেশন সিস্টেম দরকার হয়, যা বাংলাদেশে চেইন-রক্ষণ (supply chain) সমস্যার কারণে কঠিন। 
রিয়েল এস্টেট খরচ — McDonald’s মুনাফা অনেকটাই সরাসরি ভাড়া এবং জমি-ভবন মালিকানার মাধ্যমে করে — যেখানে বাংলাদেশের সেন্ট্রাল এলাকায় জমি ভীষণ দামী। 
স্থানীয় খাদ্যস্বাদ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বাজার বিশ্লেষণেও জরুরি — কিছু বিদেশি ফুড চেইন বাংলাদেশে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। 
Comments (0)
Login to leave a comment.