নাগরদোলা
~2 মিনিট পড়তে
16px


পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে একটি আনন্দময়, রঙিন দিন। এই একটা দিন যেন বাঙালি জাতিকে ধর্ম, বর্ণের বিভেদ ভুলে একই সুতায় বাঁধে। আমার জীবনেও বৈশাখ নিয়ে হরেকরকম স্মৃতি আছে। কোনো কোনোটা দুঃখের তবে বেশিরভাগই সুখের। ছোটোবেলার বৈশাখ আর বড়বেলার বৈশাখের মধ্যে এখন বিস্তর পার্থক্য। ছোটোবেলায় বৈশাখ আসা মানেই নতুন জামা কেনা চাই ঠিক ঈদের মতো। মেলায় যাওয়া চাই। মেলায় যেয়ে হরেকরকম খাবার খাওয়া চাই। মাটি দিয়ে তৈরি খেলনা কেনা চাই। বৈশাখী মেলা মানে নাগরদোলা থাকবেই। তবে, নাগরদোলায় চড়তে আমি ভয় পেতাম। কাঠের তৈরি নাগরদোলা ভয় পাবার বস্তু নয় কিন্তু কেন জানি আমার ভয় লাগতো। বিশেষত, নাগরদোলা যখন উপর থেকে নিচে নামতো, বুকটা ধুকধুক করতো। একবার ভয় থাকা সত্ত্বেও বাবার সাথে বৈশাখী মেলায় নাগরদোলায় উঠে ছিলাম। আমার চেয়ে আমার বাবা বেশি আগ্রহী ছিল নাগরদোলায় উঠতে। তাই তার মন রাখতেই নাগরদোলায় উঠলাম। তারপর ভয় পেলাম। বাবা আমাকে ছোটোবেলা থেকে সাহসী হয়ে উঠতে বলতো। কোনো কিছুকে অহেতুক ভয় পেলে আমাকে বোকা বলতো, কিছু গালমন্দও করতো কিন্তু সেটাও ভালোবেসে। মাঝেমধ্যে আমার খুব রাগ হতো এই জিনিসটা নিয়ে কিন্তু যত বড় হচ্ছি, ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি কেন সে সাহসী হতে বলতো! সেদিন ভয় পাবার পরে যথারীতি সে আমাকে হালকা গালমন্দ করলো। তবে, তাতে আমার ভয় কাটেনি। তারপর অনেক বছর আমি নাগরদোলায় উঠিনি। উঠবো আর কী, বড় হতে হতে তো বৈশাখে বাবার সাথে মেলায় যাওয়াই বন্ধ হয়ে গেছে। বাবাও আর বলেনি, সে হয়তো ঘটনাটা ভুলে গেছে কিন্তু আমার মনে আছে। এত বছরে আমি সাহসী হয়ে গেছি। জীবনের হরেকরকম চড়াই-উৎরাইয়ের সম্মুখীন হতে হতে এখন আর নাগরদোলায় উঠতে ভয় পাই না।
Comments (0)
Login to leave a comment.