""পহেলা বৈশাখের স্মৃতি (একটি হৃদয়ছোঁয়া গল্প)""

ছোটবেলার পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল আমার কাছে বছরের সবচেয়ে রঙিন দিন। এখন সময় বদলেছে, শহর বদলেছে, কিন্তু সেই দিনের স্মৃতি আজও ঠিক আগের মতোই মনে গেঁথে আছে।
সেই সকালে ঘুম ভাঙত অন্যরকম এক উত্তেজনায়। মায়ের ডাকে উঠে দেখি, ঘরে নতুন জামা, নতুন জুতা সাজানো। জানালা দিয়ে আসা হালকা বাতাসে যেন উৎসবের গন্ধ। বাবা হাসিমুখে বলতেন, “আজ বৈশাখ, মনটা পরিষ্কার রাখিস।”
আমি নতুন জামা পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতাম বারবার। মনে হতো, আজ আমি অন্য কেউ—খুব গুরুত্বপূর্ণ কেউ।
সকালে বের হয়েই চারপাশে রঙের জগৎ। লাল-সাদা পোশাকে মানুষ, হাতে বেলুন, বাঁশি আর মুখে হাসি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বৈশাখী মেলা বসেছে। কোথাও মাটির পুতুল, কোথাও বাঁশের খেলনা, আবার কোথাও মিষ্টির দোকান—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নের বাজার।
সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা। বিশাল মুখোশ, রঙিন পাখি, হাতি-ঘোড়া—সবকিছু যেন জীবন্ত হয়ে উঠত। ঢাকের শব্দে বুক কাঁপত, কিন্তু সেই কাঁপনেও ছিল আনন্দ।
বন্ধুদের সাথে আমি মিলে দৌড়াতাম, হাসতাম, আর “এসো হে বৈশাখ” গাইতাম। কারো হাতে ছিল বাঁশি, কারো হাতে বেলুন। আমরা কেউ ক্লান্ত হতাম না, শুধু চাইতাম দিনটা যেন কখনো শেষ না হয়।
দুপুরে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরলেও মন ভরতো না। মেলা থেকে কেনা ছোট বাঁশি বাজাতাম বারবার। মা হাসতেন, বলতেন, “তোর এই দিনটার আনন্দ সারাবছর থাকুক।”
সন্ধ্যার সময় যখন সূর্য ডুবে যেত, আকাশ লাল হয়ে উঠত, তখন মনে হতো—আজকের দিনটা শুধু একটি দিন নয়, এটা একটা অনুভূতি।
এখন বড় হয়ে গেলেও পহেলা বৈশাখ এলে সেই ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে আসে। মেলা, শোভাযাত্রা, বাঁশির শব্দ—সবকিছু যেন মনে ভেসে ওঠে।
পহেলা বৈশাখ আমার কাছে শুধু একটি উৎসব নয়, এটা আমার শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি, যা কখনো পুরোনো হবে না।
Comments (0)
Login to leave a comment.