রঙিন শোভাযাত্রার অদেখা গল্প.....

পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন সূচনা। ঢাকার রাস্তাগুলো ভোর থেকেই যেন রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। চারদিকে ঢোলের শব্দ, মুখোশের হাসি, আর মানুষের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পরিবেশ। মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশাল পাখি, বাঘ আর মুখোশ যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
কিন্তু এই আনন্দের পেছনে কিছু অদেখা গল্প থাকে—যেগুলো কেউ দেখে না।
রাকিব, একজন সাধারণ কিশোর। তার বাবা একজন রিকশাচালক। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে সে অন্যদের মতো শোভাযাত্রায় অংশ নিতে চায়, কিন্তু তার ভাগ্যে থাকে শুধু দূর থেকে দেখা।
এই বছর সে ঠিক করল—সে অংশ নেবে, যেভাবেই হোক।
সে চারুকলার সামনে গিয়ে দেখে, কিছু শিক্ষার্থী বিশাল এক বাঘের মুখোশ বানাচ্ছে। রাকিব চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছিল। হঠাৎ একজন বলল,
“এই ছেলেটা, দাঁড়িয়ে আছো কেন? সাহায্য করবে?”
রাকিবের চোখে যেন আলো জ্বলে উঠল।
সারারাত তারা একসাথে কাজ করল। রঙ মাখা হাত, ক্লান্ত চোখ—তবুও তাদের মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ।
পরদিন সকালে, শোভাযাত্রা শুরু হলো। রাকিব সেই বিশাল বাঘের মুখোশটা কাঁধে তুলে নিল। ঢোলের তালে তালে সে হাঁটতে লাগল। তার মনে হচ্ছিল—সে আর শুধু দর্শক নয়, সে এখন এই উৎসবেরই অংশ।
শোভাযাত্রা শেষে, সবাই পান্তা-ইলিশ খেতে গেল। রাকিবের কাছে টাকা ছিল না। সে চুপচাপ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঠিক তখনই সেই শিক্ষার্থীরা তাকে ডাকল—
“এই, তুমি তো আমাদের টিমের! এসো, একসাথে খাই!”
রাকিবের চোখ ভিজে উঠল।
মেলার মাঠে গিয়ে সে প্রথমবারের মতো নাগরদোলায় উঠল। চারপাশে আলো, গান, হাসি—সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো লাগছিল।
সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে রাকিব বুঝল—পহেলা বৈশাখ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটা মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর দিন।
সে নিজের ডায়েরিতে লিখল—
“আজ আমি শুধু বৈশাখ দেখিনি, আমি বৈশাখকে অনুভব করেছি।”
Comments (0)
Login to leave a comment.