রঞ্জুর ত্যাগের গল্প
<!--StartFragment-->কোরবানি মানে শুধু পশু জবাই করা নয়, কোরবানি মানে নিজের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করা—এই কথাটি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু ত্যাগের প্রকৃত আনন্দ যে কতটা গভীর হতে পারে, তা আমি (রঞ্জু) অনুভব করেছিলাম গত বছরের ঈদুল আযহায়।
আমি তখন অনেকদিন ধরে জমানো টাকা দিয়ে একটি নতুন স্মার্টফোন কেনার স্বপ্ন দেখছিলাম। ছাত্র হিসেবে সামান্য হাতখরচ বাঁচিয়ে সেই টাকা জোগাড় করা আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু ঈদের ঠিক কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে আমার এক সহপাঠীর পরিবার সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তাদের কোরবানি তো দূরের কথা, থাকার মতো মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও অবশিষ্ট ছিল না।
আমার মনে তখন এক প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল। একদিকে আমার দীর্ঘদিনের শখের স্মার্টফোন, অন্যদিকে আমার বন্ধুর পরিবারের করুণ মুখ। আমি ভাবলাম, ফোন তো পরেও কেনা যাবে, কিন্তু এখন যদি আমি আমার বন্ধুর পাশে না দাঁড়াই, তবে ত্যাগের এই ঈদের সার্থকতা কোথায়?
শেষ পর্যন্ত আমি আমার জমানো পুরো টাকাটা বন্ধুর বাবার হাতে তুলে দিলাম। তিনি যখন অশ্রুসজল চোখে আমার মাথায় হাত রাখলেন, তখন আমার বুকের ভেতর যে প্রশান্তি অনুভব করলাম, তা কোনো নতুন ফোনের চেয়ে হাজার গুণ বেশি মূল্যবান ছিল।
সেবার ঈদে আমার হাতে নতুন ফোন ছিল না ঠিকই, কিন্তু রঞ্জু হিসেবে আমি সেদিন জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি পেয়েছিলাম—নিজের ইচ্ছা বিসর্জন দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর নামই প্রকৃত ত্যাগ।
<!--EndFragment-->
Comments (0)
Login to leave a comment.