BanglaTech

© 2026 Bangla Technologies. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.

একটিNerddevs Ltd-এর প্রোডাক্ট
হোমঅনুসন্ধানআমাদের সম্পর্কেটিউটোরিয়ালশিক্ষকদের জন্যকোচিং সেন্টারের জন্যগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলি
Competition Entry: COMP-S8ZWNS
স্বাধীনতামুক্তিযুদ্ধ১৯৭১দেশপ্রেমত্যাগসংগ্রামবাংলাদেশযুদ্ধের গল্পঅনুপ্রেরণাঐতিহাসিক গল্প

....স্বাধীনতার পেছনের ত্যাগ ও সংগ্রাম....

s
shahadathossain31
March 23, 2026 · 260 views
....স্বাধীনতার পেছনের ত্যাগ ও সংগ্রাম....
~4 মিনিট পড়তে
16px

চরদীঘলিয়া গ্রামটি ছিল শান্ত, সবুজে ঘেরা এক স্বপ্নময় জনপদ। পাখির ডাক, কাশফুলের দোল আর নদীর কলকল ধ্বনিতে ভরা ছিল সেই গ্রাম। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল সময়, এই শান্ত গ্রামটিকেও গ্রাস করেছিল এক ভয়ংকর অন্ধকার।

এই গ্রামেরই এক তরুণ ছিল হাসান। বয়স মাত্র ১৮। চোখে স্বপ্ন, মনে সাহস, আর বুকভরা দেশপ্রেম। হাসানের বাবা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক—সৎ, নীতিবান মানুষ। মা ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু তার হৃদয়ে ছিল অদম্য শক্তি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত।

চারদিকে গুলির শব্দ, আগুনের লেলিহান শিখা, আর মানুষের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। হাসান সেদিন প্রথমবার বুঝেছিল—স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এক কঠিন সংগ্রামের নাম।

পরদিন সকালে হাসান তার বাবাকে বলল,

“আব্বা, আমি যুদ্ধে যাব।”

বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন,

“যাও বাবা। দেশের জন্য যদি কিছু করতে পারো, তাহলে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় গর্ব।”

মায়ের চোখ ভিজে উঠেছিল। কিন্তু তিনি হাসানকে থামাননি। বরং নিজের হাতে তার ব্যাগ গুছিয়ে দিলেন। বিদায়ের সময় শুধু বললেন,

“সাবধানে থেকো, আর দেশের জন্য লড়াই করো।”

হাসান সেই দিনই গ্রামের আরও কয়েকজন তরুণের সাথে সীমান্তের দিকে রওনা দিল।

### প্রশিক্ষণ ও প্রথম লড়াই

কয়েকদিনের কষ্টকর যাত্রার পর তারা পৌঁছাল এক মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। সেখানে শুরু হলো কঠোর প্রশিক্ষণ।

ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলত অস্ত্র চালানো, কৌশল শেখা, এবং মানসিক প্রস্তুতি।

হাসান প্রথমদিকে কষ্ট পেলেও হাল ছাড়েনি। তার মনে একটাই কথা—দেশকে স্বাধীন করতে হবে।

একদিন তাদের প্রথম মিশনের নির্দেশ এলো।

লক্ষ্য: শত্রুদের একটি ছোট ক্যাম্প ধ্বংস করা।

রাতের অন্ধকারে হাসান ও তার দল এগিয়ে গেল। চারদিকে নিস্তব্ধতা। শুধু মাঝে মাঝে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছিল।

হঠাৎ গুলির শব্দ।

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল।

হাসানের হাত কাঁপছিল, কিন্তু সে থামেনি। সে গুলি চালাতে লাগল, সামনে এগিয়ে যেতে লাগল। তার এক বন্ধু রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে গেল।

রফিকের দিকে তাকিয়ে হাসান এক মুহূর্ত থেমে গেল, কিন্তু তারপরই নিজেকে সামলে নিল।

সে জানত—এখন থামা যাবে না।

সেই রাতে তারা মিশনে সফল হলো, কিন্তু হারালো একজন প্রিয় সঙ্গী।

### গ্রামের ওপর আক্রমণ

কয়েক সপ্তাহ পর হাসান খবর পেল—তার নিজের গ্রাম চরদীঘলিয়ায় আক্রমণ হয়েছে।

সে আর অপেক্ষা করতে পারল না। অনুমতি নিয়ে সে তার গ্রামে ফিরে এল।

গ্রামে পৌঁছে সে যা দেখল, তা তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য।

ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, আর মানুষের চোখে আতঙ্ক।

সে দৌড়ে নিজের বাড়ির দিকে গেল।

বাড়িটি অর্ধেক পুড়ে গেছে।

তার মা দরজার পাশে বসে কাঁদছিলেন।

“আম্মা!”

মা তাকিয়ে হাসানকে দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন।

“তুই বেঁচে আছিস!”

হাসান কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,

“আব্বা কোথায়?”

মা কিছু বলতে পারলেন না। শুধু কাঁদতে লাগলেন।

পাশের এক প্রতিবেশী এসে বলল,

“তোর আব্বাকে ধরে নিয়ে গেছে...”

হাসানের বুকটা যেন ভেঙে গেল।

সেদিন সে বুঝল—এই যুদ্ধ শুধু দেশের জন্য নয়, এটি তার নিজের পরিবারের জন্যও।

### প্রতিশোধ নয়, মুক্তির লড়াই

হাসানের মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু তার কমান্ডার তাকে বললেন,

“এই যুদ্ধ প্রতিশোধের জন্য নয়, এটি মুক্তির জন্য।”

এই কথা শুনে হাসান নিজেকে সামলে নিল।

সে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলো—সে লড়বে, কিন্তু ঘৃণার জন্য নয়, স্বাধীনতার জন্য।

### বড় অপারেশন

ডিসেম্বর মাস।

যুদ্ধের শেষ সময়।

হাসানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাঠানো হলো—শত্রুদের একটি বড় ঘাঁটি দখল করা।

এই মিশন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

রাত ২টা।

তারা নিঃশব্দে এগিয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ শত্রুরা টের পেয়ে গেল।

শুরু হলো তীব্র যুদ্ধ।

গুলির শব্দ, বোমার বিস্ফোরণ, আর চিৎকারে চারদিক কেঁপে উঠল।

হাসান সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ একটি গুলি তার কাঁধে লাগে।

সে পড়ে গেল।

তার সঙ্গীরা তাকে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু হাসান বলল,

“না! আগে মিশন শেষ করো!”

রক্তাক্ত অবস্থায়ও সে লড়াই চালিয়ে গেল।

শেষ পর্যন্ত তারা ঘাঁটিটি দখল করতে সক্ষম হলো।

### বিজয়ের দিন

১৬ ডিসেম্বর।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো।

চারদিকে আনন্দ, উল্লাস, বিজয়ের স্লোগান।

হাসান তখন একটি অস্থায়ী হাসপাতালে শুয়ে।

তার কাঁধে ব্যান্ডেজ, কিন্তু মুখে হাসি।

সে জানত—এই স্বাধীনতা সহজে আসেনি।

এটি এসেছে অসংখ্য ত্যাগ, অশ্রু, আর রক্তের বিনিময়ে।

### ফিরে আসা

কয়েক মাস পর হাসান তার গ্রামে ফিরে এল।

গ্রামটি ধীরে ধীরে আবার নতুন করে গড়ে উঠছে।

সে তার মাকে জড়িয়ে ধরল।

কিন্তু তার বাবার কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না।

হাসান গ্রামের শিশুদের নিয়ে একটি ছোট স্কুল শুরু করল।

সে তাদের শুধু পড়াত না, তাদের স্বাধীনতার ইতিহাসও শোনাত।

সে বলত,

“এই দেশ আমরা পেয়েছি অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। তোমাদের দায়িত্ব এটি রক্ষা করা।”

### শেষ দৃশ্য

একদিন বিকেলে হাসান নদীর ধারে বসে ছিল।

সূর্য অস্ত যাচ্ছে।

আকাশ লাল হয়ে উঠেছে—ঠিক যেন সেই রক্তের রঙ, যা এই দেশের জন্য ঝরেছে।

হাসান আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আব্বা, আমরা পেরেছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে।”

তার চোখে জল ছিল, কিন্তু সেই জলে ছিল গর্ব, ভালোবাসা, আর এক অমলিন বিজয়ের আলো।

আরও দেখুন

🏆
কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিন
ফ্রি অনলাইন কুইজ, জিতুন পুরস্কার।
✏️
নিজে কুইজ তৈরি করুন
শিক্ষক ও টিউটরদের জন্য ফ্রি টুলস।
✨
BanglaTech সম্পর্কে
আমাদের গল্প ও মিশন।

Comments (0)

Login to leave a comment.