স্বাধীনতার পেছনের ত্যাগ ও সংগ্রাম
সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক
তাকিয়ে রয়,
জ্বালে পুড়ে মরে ছারখার, তবুও মাথা,
নোমাবার নয়।” - সুকান্ত ভট্টাচার্য।
এখন ২০২৬ সাল, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পূর্ণ হলো, ২৬শে মার্চ, ১৯৭১ সালে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি দেশের নামের অন্তর্ভুক্তি ঘটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এদিনটিকে ঘিরে রয়েছে। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাংলার মানুষ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক স্বৈরশাসনের ২৪ বছরের গ্লানি থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে কত যুদ্ধ" সংগ্রামই না করলো!
ঐতিহাসিক, ২৬শে মার্চ, শুধু একটি তারিখ নম্ন এটি লাখো শহিদের বিনিময়ে পাওয়াহাজার বছরের আকাঙ্ক্ষা, প্রতিবছর আমরা ২৬শে মার্চকে 'স্বাধীনতা দিবস' হিসেবে পালন করি। স্বাশীনতা দিবসে আমরা লাল-সবুজ আমাপড়ে ব্যাজ পড়ে সকালবেলা থেকে শুরু করে ব্যারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। এটি একটি ইতিহাসে স্মরণীয় দিন।
২০২৪ সালের প্রকৃত স্বাধীনতা: ২০২৪ সালের শুরুতে প্রহসনের ক্ষমতা দখল করে শেখ হাসিনা আবার তার স্বম্বর্তিত ফিরে আসে। কৌশলে পুরানো কোটা আবার চালু করলে, শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করে। ১৪ই জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো' থেকে প্রায় সব ছাত্রী মিছিল মিছিল করতে করতে বেরিয়ে এলে আন্দোলনের অভূতপূর্ব সর্বজনীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আন্দোল এর নাম দেয়া হয় 'কোটা আন্দোলন'। এই গোটা অভ্যুত্থান জুড়ে শহীদ হয়, আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ তাহির জামান, ফয়সাল আহমেদ, দিপ্ত দে, ইয়ামিন, রুদ্র সেন, রাকিব হাসানের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা।একে ",জুলাই অভ্যুত্থান" বলা হয়। এই আন্দোলনকারীদের তীব্র প্রতি১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমন চালালে বাঙালি ছাত্র, জনতা, পুলিশ, ইপিআর ['ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস] সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বিনা প্রতিরোধে পাক-সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশিরা চছাঁড় দেয়নি। তাঁরা ছিলেন দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেন মূল নিয়ামক ছিল শক্তি। তাইতো কবি বলেছেন,
বারুদের ভেতর জন্মায় প্রতিরোধ, চারদিকে
ইতারে ভেসে ওঠে নেতার কণ্ঠ, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
গর্জে ওঠে বীর বাঙ্গালী, সাহসে, আবেগে নির্ভীক
উক্ত কবিতায় বাঙালির উন্মেষ ও শক্তি জাগরন্থের বিষয়টি ফুটে দেওয়া হয় মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজাকে। আর সার্বিকভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় কুখ্যাত খুনি টিক্কা খানকে। অপারেশন সার্চলাইটের সঙ্গে আরও সংযুক্ত ছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও অন্যতম ডাঙ্গাবাজ পাকিস্তান পিপলস পাটির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ।ইয়াহিয়া খান ১লা মাচ ভুট্টোর ঘোষনাকে অদ্ভু্যুহাত দেখিয়ে ৩রা মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় অধিবেশনে যোগদান করতে অস্বীকার করেন। ১৭ই মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক কর্মসূচীর মাধ্যমে বাঙালির ওপর নির্মম, নৃশংস হত্যাকান্ডের পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন। ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫শে মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। পোপন আলোএই অভিযানের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, বাঙালিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয়া, রাজনৈতিক সামরিক বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করা। বাঙালি জাতীয়তা-বাদী। পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তরে মালা ষড়যন্ত্র ও কালক্ষেপণ করতে থাকে। শুরু কলে নানা টালবাহানা। এ-থেকেই মূলত অপারেশন সার্চলাইট সংঘটিত হয়।২৫শে মার্চ কালরাত্রির
বর্বর অভিযানের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবরার। ঢাকা ব্যাতীত সমগ্র পূর্ব বাংলার দায়িত্ব পান মেজর খাদিম।
Comments (0)
Login to leave a comment.