শেয়ারিং ও ত্যাগের আনন্দ
আমার নাম নুরুল আমিন । প্রতি বছর কোরবানি ঈদ আমাদের জীবনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসে, তবে গত বছরের কোরবানি ঈদটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা এবং শিক্ষণীয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমাদের আনন্দগুলো থাকে সীমিত, কিন্তু ত্যাগের মহিমা ছিল অসীম।ঈদের আগের দিন বাবা একটা মাঝারি সাইজের সাদা খাসি কিনে আনলেন। খাসিটা আনার পর থেকেই তার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর। মাত্র একটা দিনেই খাসিটার প্রতি আমার অন্যরকম একটা মায়া জন্মে গিয়েছিল। ঈদের দিন সকালে যখন সেটিকে কোরবানির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আমার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তখন বাবা আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "ত্যাগের আসল অর্থই হলো নিজের প্রিয় জিনিস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা।" বাবার এই কথাটা আমার মনের কষ্টটা দূর করে দিল। কিন্তু গল্পের আসল শিক্ষাটা শুরু হলো মাংস বিতরণের সময়। আমাদের এলাকায় এক রিকশাচালক চাচা থাকেন, যিনি তীব্র অর্থাভাবের কারণে এবার ঈদে কোনো নতুন জামা বা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেননি। বাবা আমাকে ডেকে বললেন, "যাও, আমাদের ভাগের সবচেয়ে ভালো মাংসের অংশটা ওনার ঘরে দিয়ে এসো।আমি যখন মাংসের প্যাকেটটা নিয়ে ওনার ভাঙা ঘরে গেলাম, তখন ওনার ছোট ছেলেমেয়েদের চোখের আনন্দ দেখে আমার বুকটা ভরে গেল। চাচা আবেগপ্লুত হয়ে আমার হাত ধরে দোয়া করে দিলেন।
সেদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, কোরবানি মানে শুধু পশু জবাই করা নয়। কোরবানি মানে নিজের ভেতরের অহংকার বিসর্জন দেওয়া এবং চারপাশের অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। নিজের পছন্দের অংশ অন্যকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝে যে কী অসীম শান্তি লুকিয়ে আছে, তা আমি গত ঈদে প্রথমবার অনুধাবন করেছি। এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ত্যাগের গল্প।
Comments (0)
Login to leave a comment.