BanglaTech

© 2026 Bangla Technologies. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.

একটিNerddevs Ltd-এর প্রোডাক্ট
হোমঅনুসন্ধানআমাদের সম্পর্কেটিউটোরিয়ালশিক্ষকদের জন্যকোচিং সেন্টারের জন্যগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলি
Competition Entry: COMP-S8ZWNS
মুক্তিযুদ্ধস্বাধীনতাদেশপ্রেমশহীদবাংলাদেশপরিবারসংগ্রামঅনুপ্রেরণা২৬ মার্চগল্প

শহীদের সন্তানের শপথ ✊🔥🇧🇩

m
morsalin12
March 22, 2026 · 244 views
শহীদের সন্তানের শপথ ✊🔥🇧🇩
~4 মিনিট পড়তে
16px

গ্রামের নামটি খুব সাধারণ—চরসোনাপুর। কিন্তু এই সাধারণ গ্রামের মাটির নিচে লুকিয়ে আছে অসাধারণ এক ইতিহাস, এক অদৃশ্য রক্তের গন্ধ, এক মুক্তির সংগ্রামের অমর স্মৃতি।

এই গ্রামের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরনো টিনের ঘর। সেই ঘরের দেয়ালে ঝোলানো একটি সাদা-কালো ছবি—একজন তরুণ, চোখে অদম্য দৃঢ়তা, মুখে মৃদু হাসি। ছবির নিচে লেখা—“শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের”।

এই গল্প সেই মানুষটিকে ঘিরে নয়, বরং তার পরিবারকে ঘিরে—যারা আজও বহন করে তার ত্যাগের ভার।

---

### ১

মাহবুব তখন ক্লাস নাইন-এর ছাত্র। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে সে একবার বাবার ছবির সামনে দাঁড়ায়। তার মা, সালমা বেগম, চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন ছেলের দিকে। এই অভ্যাসটা মাহবুবের নিজের নয়, ছোটবেলা থেকেই মা তাকে শিখিয়েছেন।

“তোমার বাবা শুধু তোমার বাবা না, তিনি এই দেশের একজন বীর,”—মা বলতেন।

মাহবুব ছোটবেলায় এসব বুঝত না। কিন্তু বড় হতে হতে তার মনে প্রশ্ন জমতে থাকে—

“আমার বাবা কোথায়? কেন তিনি আমাদের সাথে নেই?”

একদিন সে সাহস করে জিজ্ঞেস করল—

“মা, বাবা কি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?”

সালমা বেগমের চোখে জল ভেসে উঠল। কিন্তু তিনি হাসলেন—

“না বাবা, তোমার বাবা আমাদের ছেড়ে যাননি… তিনি আমাদের জন্যই চলে গেছেন।”

---

### ২

১৯৭১ সাল।

আব্দুল কাদের তখন একজন কলেজ ছাত্র। চারদিকে উত্তেজনা, আন্দোলন, প্রতিবাদ। ৭ মার্চের ভাষণের পর তার মনে আর কোনো দ্বিধা ছিল না।

তিনি মাকে বলেছিলেন—

“মা, আমি যুদ্ধে যাচ্ছি। দেশ স্বাধীন না হলে ফিরে আসব না।”

তার মা কাঁদছিলেন, কিন্তু থামাননি।

কারণ তিনি জানতেন—এটা শুধু তার ছেলের যুদ্ধ না, পুরো জাতির যুদ্ধ।

কাদের চলে গেলেন। কয়েক মাসের মধ্যে তিনি হয়ে উঠলেন এক সাহসী গেরিলা যোদ্ধা। রাতের অন্ধকারে অপারেশন, শত্রুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ—সবকিছুতেই তিনি ছিলেন সামনে।

এক রাতে এক বড় অপারেশনে তিনি গুরুতর আহত হন। সহযোদ্ধারা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পারেনি।

মৃত্যুর আগে তিনি শুধু বলেছিলেন—

“আমার মা আর আমার দেশের কথা বলো… বলো আমি পিছু হটিনি…”

---

### ৩

যুদ্ধ শেষ হলো। দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু কাদের আর ফিরলেন না।

তার স্ত্রী সালমা তখন মাত্র ২০ বছরের তরুণী। কোলে ছোট্ট শিশু—মাহবুব।

গ্রামের মানুষ তাকে সম্মান দিত, কিন্তু বাস্তবতা ছিল কঠিন। অর্থনৈতিক কষ্ট, সামাজিক চাপ—সবকিছু একসাথে সামলাতে হয়েছে তাকে।

অনেকেই বলেছিল—

“তুমি আবার বিয়ে করো, জীবনটা সহজ হবে।”

কিন্তু সালমা একটাই উত্তর দিতেন—

“আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। আমার জীবন আমি তার স্মৃতির সাথে কাটাবো।”

---

### ৪

মাহবুব বড় হতে থাকে। তার জীবনে বাবার অনুপস্থিতি একটা শূন্যতা তৈরি করে। কিন্তু সেই শূন্যতাকে শক্তিতে পরিণত করেন তার মা।

প্রতিদিন রাতে সালমা তাকে গল্প শোনাতেন—

কিভাবে তার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, কিভাবে তিনি ভয় পাননি, কিভাবে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

মাহবুবের মনে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত অনুভূতি—

গর্ব, ভালোবাসা, আর দায়িত্ব।

---

### ৫

একদিন স্কুলে শিক্ষক বললেন—

“২৬ মার্চ উপলক্ষে সবাইকে একটি করে গল্প লিখতে হবে—মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।”

মাহবুব চুপ হয়ে গেল। সে জানে তার গল্প অন্যদের থেকে আলাদা হবে। কারণ তার গল্প বই থেকে পড়া না, তার নিজের জীবন থেকে নেওয়া।

সেই রাতে সে বাবার ছবির সামনে বসে থাকে অনেকক্ষণ।

তার মনে হয়—

“আমি কি বাবার গল্প ঠিকভাবে বলতে পারব?”

মা এসে তার পাশে বসেন।

“তুমি শুধু সত্যটা লিখো, বাবা। তোমার হৃদয়ের কথা লিখো।”

---

### ৬

মাহবুব লিখতে শুরু করল—

সে লিখল তার বাবার সাহসের কথা, তার মায়ের ত্যাগের কথা, তাদের পরিবারের সংগ্রামের কথা। সে লিখল সেই অপেক্ষার কথা, যে অপেক্ষা কখনো শেষ হয়নি।

লিখতে লিখতে তার চোখ ভিজে যায়। কিন্তু সে থামে না।

কারণ সে জানে—এই গল্প শুধু তার না, হাজারো মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের গল্প।

---

### ৭

প্রতিযোগিতার দিন।

সবাই তাদের গল্প জমা দিল। মাহবুবও দিল তার লেখা।

কয়েকদিন পর ফলাফল ঘোষণা করা হলো।

প্রথম স্থান—মাহবুব।

মঞ্চে উঠে যখন সে পুরস্কার নিতে গেল, তার চোখে জল।

কারণ সে জানে—এই পুরস্কার তার একার না।

সে মাইকে বলল—

“এই গল্প আমার বাবার। একজন মুক্তিযোদ্ধার গল্প। আর আমার মায়ের—যিনি একা লড়াই করে আমাকে বড় করেছেন।”

পুরো হলঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

---

### ৮

সেই দিন থেকে মাহবুবের জীবন বদলে যায়।

সে সিদ্ধান্ত নেয়—

সে বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে। সে তার বাবার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখবে।

তার মা চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন। তার চোখে গর্বের অশ্রু।

---

### উপসংহার

একজন মুক্তিযোদ্ধার ত্যাগ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে শেষ হয় না। সেই ত্যাগ বেঁচে থাকে তার পরিবারের মাঝে, তার সন্তানের স্বপ্নে, তার স্ত্রীর সংগ্রামে।

আব্দুল কাদের নেই, কিন্তু তার আদর্শ বেঁচে আছে মাহবুবের মাঝে।

আর এইভাবেই, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, রক্তঋণের এই উত্তরাধিকার বহমান থাকে…...

আরও দেখুন

🏆
কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিন
ফ্রি অনলাইন কুইজ, জিতুন পুরস্কার।
✏️
নিজে কুইজ তৈরি করুন
শিক্ষক ও টিউটরদের জন্য ফ্রি টুলস।
✨
BanglaTech সম্পর্কে
আমাদের গল্প ও মিশন।

Comments (0)

Login to leave a comment.